default-image

করোনার এই সময়ে এখন বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে জার্মানির ডয়েচে ব্যাংক বলছে, অফিসে না এসে বাড়ি থেকে কাজ করা বেছে নেওয়া কর্মীদের বেতনের ৫ শতাংশ কর দেওয়া উচিত। করের এই অর্থ স্বল্প আয়ের লোকদের সহায়তা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যাঁরা তাঁদের কাজ দূর থেকে করতে পারছেন না। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংকটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়, গড়পড়তা ব্যক্তি এই কর প্রদান করলে তেমন ক্ষতির মুখে পড়বেন না, কারণ ঘরে বসে কাজ করায় তাঁদের পরিবহন, খাবার ও পোশাকের জন্য ব্যয় হচ্ছে না। এই অর্থ সাশ্রয় করতে পারছেন। ডয়েচে মনে করে, নিয়োগকর্তারা যদি কর্মীদের স্থায়ী ডেস্ক সরবরাহ না করেন, তবে তাঁদের কর পরিশোধ করা উচিত। অন্যথায় কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা নেওয়ায় প্রতিদিনের বেতন হিসেবে এটি পরিশোধ করা উচিত।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম কর থেকে যে রাজস্ব আয় সম্ভব

ডয়েচের হিসাব অনুযায়ী, এই রকম কর আরোপ করলে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ৪৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করতে পারবে। জার্মানির ক্ষেত্রে আয় হবে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ স্বল্প আয়ের

বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে এই কর ন্যায্য, কারণ বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীরা মহামারি চলার সময় সুবিধাদি এবং কাজে নমনীয়তার পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয়ের মতো অনেক সুবিধা অর্জন করেছেন।

উপার্জনকারী, যাঁরা দূর থেকে কাজ করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। হিসাবটা অনেকটা এমন—যদি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমে’ থাকা কোনো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীর গড় বেতন বছরে ৫৫ হাজার ডলার হয়, তবে তাঁর দিনে প্রায় ১০ ডলার কর দিতে হবে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে ধরা যাক কর্মীর গড় বেতন বছরে ৪৬ হাজার ৪০০ ডলার। তাঁকে প্রতিদিন দিতে হবে ৯ দশমিক ২৮ ডলারের মতো।

যাঁদের ওপর আরোপ করা যেতে পারে এই কর

ডয়েচে বলছে, স্বকর্মসংস্থান এবং স্বল্প বেতনের কর্মীদের এ করের আওতায় আনা উচিত হবে না। এ ছাড়া এই কর কেবল সেই দেশে প্রয়োগ করা উচিত, যেখানে সরকার জনগণকে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেয়নি, সরকার যদি জনগণকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলে, তবে এই কর আরোপ অন্যায্য হবে।
প্রতিবেদনে ডয়েচে ব্যাংকের গবেষণা কৌশলবিদ জিম রেইড বলেন, ‘মহামারি কেটে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে কাজ করা 'নতুন সাধারণের’ অংশ হবে। আমাদের যুক্তি, সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মীদের একটি কর প্রদান করা উচিত।’

প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে এই কর ন্যায্য, কারণ বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীরা মহামারি চলার সময় সুবিধাদি এবং কাজে নমনীয়তার পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয়ের মতো অনেক সুবিধা অর্জন করেছেন।

ডয়েচে ব্যাংকের তাত্ত্বিক কৌশলবিদ লুক টেম্পলম্যান বলেন, বহু বছর ধরে আমাদের দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের ওপর একটি কর আরোপের প্রয়োজন ছিল। করোনা এটি সুস্পষ্ট করে তুলেছে।

সার্চ ইঞ্জিন গুগল তাদের কর্মীদের আগাম গ্রীষ্ম পর্যন্ত ওয়ার্ক ফ্রমে পাঠিয়েছে। টুইটারের কর্মীদের বলা হয়েছে যে তাঁরা চাইলে পুরো কর্মজীবন বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। আমেরিকান এক্সপ্রেস, এয়ারবিএনবি এবং উবারও তাদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সময় বাড়িয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0