default-image

জাপানের খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি প্রচলন হলো, কোনো নথিপত্রে স্বাক্ষরের বদলে সিল দেওয়া। তবে করোনার কারণে এই প্রচলন বন্ধ হওয়ার পথে। কারণ বেশির ভাগ দাপ্তরিক কাজই এখন দেশটিতে বাড়ি থেকে হচ্ছে। টয়োটা আর নুমুরার মতো করপোরেট জায়ান্টরা বেনগোফোর ডটকম ইনক নামে একটি স্বল্পপরিচিত কোম্পানির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর পরিষেবায় সাইন-আপ করছেন। এর ফলে চলতি বছরে রমরমা অবস্থা কোম্পানিটির। পুঁজিবাজারের কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। আর এই সুযোগে বিলিয়নিয়ারের খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা তাইচিরো মোটোয়ে।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয় ১৫ বছর আগে টোকিওর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলেও এতটা সফলতা এর আগে দেখেননি তাইচিরো। ফোর্বসের হিসাবে তাইচিরোর সম্পদের পরিমাণ এখন ১০০ কোটি ডলারের বেশি। অবশ্য পুরোটাই এই শেয়ারের দাম নির্ভর করে।

বিজ্ঞাপন

করোনার এই সময় বিনিয়োগকারীরা অবশ্য বেনগোফোরের ই-স্বাক্ষর পরিষেবা নিয়ে বেশ আশাবাদী। কারণ, যত বেশি লোক দূর থেকে কাজ করছেন, তত বেশি জাপানের কোম্পানিগুলো নথি সত্যায়িত করার জন্য ই-স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করছে। সাধারণ সময়ে যে সিল দিয়ে নথি সত্যায়িত করা হয়, তাকে হ্যাংকো বলে। প্রায় ১৮০০ সাল থেকে এর প্রচলন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রথম সাক্ষাৎকার দেন নতুন এই বিলিয়নিয়ার। তিনি বলেন, ক্লাউড সাইনপদ্ধতি সনাতন হ্যাংকো সংস্কৃতি পরিবর্তন করছে। বেনগোফোর জানায়, তাদের ক্লাউড সাইন সেবা দেশের বাজারের ৮০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে রেখেছে। বর্তমানে জাপানে সবচেয়ে প্রভাবশালী ই-স্বাক্ষর পরিষেবা। একাধিক খাতের ১ লাখের বেশি সংস্থা ক্লাউড সাইন ব্যবহার করে, যা এক বছর আগেও ৫০ হাজারের কম ছিল।

বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ও আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তাইচিরো একজন সংসদ সদস্য। ৪৪ বছর বয়সী তাইচিরো ২০১৬ সাল থেকে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চসভার সদস্য।

বেনগোফোর শব্দটি মূলত জাপানি শব্দ বেনঘোশি থেকে এসেছে। এর অর্থ আইনজীবী। আইনজীবীদের জন্য একটি অনলাইন ডিরেক্টরি হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। তাইচিরো মোটোয়ে জাপানের শীর্ষস্থানীয় আইন সংস্থা অ্যান্ডারসন মরির করপোরেট আইনজীবী ছিলেন। চাকরি ছেড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি নিজস্ব আইন সংস্থা, অথেন্স আইন অফিস শুরু করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা করেন বেনগোফোর।

মজার বিষয় হচ্ছে, বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ও আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তাইচিরো একজন সংসদ সদস্য। ৪৪ বছর বয়সী তাইচিরো ২০১৬ সাল থেকে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চসভার সদস্য। গত বছর দেশের সর্বোচ্চ রোজগেরে আইনপ্রণেতা ছিলেন তিনি। এবং এই মাসের শুরুতে তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদ সুগার মন্ত্রিসভায় সংসদীয় অর্থ উপমন্ত্রী হিসাবে যোগদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0