default-image

বিগত কয়েক দশকের মধ্যে বার্ষিক হিসাবে চলতি বছরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। আর প্রবৃদ্ধি অর্জনের হারে দেশটি উন্নত অন্য অনেক দেশকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে আগামী তিন মাসে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।

১০৫ জন অর্থনীতিবিদের ওপর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক জরিপে এমন অভিমতই উঠে এসেছে। যখন করোনার নতুন ঢেউ মারাত্মক ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই অর্থনীতি বিশ্লেষক ও পূর্বাভাসকারীরা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে নিয়ে এমন আশাবাদের কথা শোনালেন। তাঁদের এই আশাবাদের পেছনে যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন, অর্থাৎ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের রিলিফ প্যাকেজ বা ত্রাণ কর্মসূচি পাস করেছেন এবং অবকাঠামো খাতের জন্য আরও দুই ট্রিলিয়ন বা দুই লাখ কোটি ডলারের বড় পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দুটি কর্মসূচি ও পরিকল্পনার সুফল মিলবে অর্থনীতিতে।

রয়টার্স ১৬ থেকে ২০ এপ্রিল সময়ে জরিপটি পরিচালনা করে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) চলতি বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। এই পূর্বাভাস বাস্তবে পরিণত হলে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৪ সালের পরে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের রেকর্ড। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস হচ্ছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের অন্তত ১৫ শতাংশ মনে করেন, চলতি বছরে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে আরও বেশি। তা হতে পারে ৭ শতাংশ বা এর চেয়েও বেশি। জরিপে করোনাবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাব দেন ৫৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন বা ৭০ শতাংশের মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিএম ক্যাপিটাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ স্যাল গুয়াতেইরি বলেন, ‘আমরা মূলত অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা এবং সর্বাত্মক টিকাদান কর্মসূচির কথা বিবেচনা করেই উচ্চ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছি।’

গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে চলতি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে সাড়ে ৮ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বেশির ভাগ উন্নত দেশের জন্য জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

অধিকাংশ অর্থনীতিবিদই আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছরেই করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন