উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা ২০১৩ সালে মোট ৪৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। পাঁচ বছর ধরেই দেশটির আমদানি ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারে বাংলাদেশ।
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার (এমসিসিআই) ভবন মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘কানাডায় রপ্তানি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে এমসিসিআই ও কানাডার ট্রেড ফেসিলিটেশন অফিস (টিএফও)।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া পিয়েরে লাঘামে বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে কানাডায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, কানাডার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চান। এ ক্ষেত্রে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের জন্য সুযোগ চান তাঁরা। যৌথভাবে বিনিয়োগের জন্য কানাডার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এ-দেশীয় ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তিনি।
এমসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার (জিএসপি) আওতায় কানাডায় শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে টিএফও কানাডার প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাকি মুন্সি জানান, ২০১৩ সালে কানাডা বাংলাদেশ থেকে যত পণ্য আমদানি করে তার মধ্যে ২৭ শতাংশই ছিল ওভেন, নিট পোশাক ও অন্যান্য বস্ত্র। কানাডায় পোশাক রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে কানাডা যত পাদুকা, হিমায়িত খাদ্য ও চিংড়ি আমদানি করে তার মাত্র ৪ শতাংশ যায় বাংলাদেশ থেকে। আসবাব, সিরামিক এবং সবজিও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় সামান্য পরিমাণে। অথচ এসব পণ্য কানাডা যেমন বেশি আমদানি করে, আবার বাংলাদেশেও প্রচুর উৎপাদিত হয়। ফলে একটু নজর দিলেই কানাডায় এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ দেশে কানাডার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছিল ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন