default-image

সাবস্ক্রাইবার কমে যাচ্ছে মার্কিন অনলাইন ভিডিও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের। করোনার কারণে কনটেন্ট কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। তবে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে প্রতিযোগিতার এই বাজারে চলে আসছে আরও বড় বড় কোম্পানি। পিছিয়ে পড়ছে নেটফ্লিক্স। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আর এ খবর প্রকাশের পর পুঁজিবাজারে পড়ে গেছে কোম্পানিটির শেয়ারের দরও। আজ বুধবার নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে তাদের প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করেছে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার জন, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। তারা আশা করেছিল, বছরের এই প্রান্তিকে ৬০ লাখ গ্রাহক নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রাইব করবে।

সংস্থাটি বলেছে, নতুন কনটেন্টের অভাবেই মূলত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে সামনে তাদের জনপ্রিয় কিছু কনটেন্টের নতুন পর্ব আসছে, হয়তো অবস্থা আবার পুনরুদ্ধার হবে। তবে এ সংবাদে পুঁজিবাজারে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দর কমেছে ১১ শতাংশ।
গত বছর এই স্ট্রিমিং পরিষেবায় ১ কোটি ৫৮ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছিল। মূলত করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় অনলাইনের কার্যক্রম বেড়ে যায়। ওই গ্রাহকের বেশির ভাগই ছিল এশিয়ার। ২০২০ সালে নেটফ্লিক্সের নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছিল ৯৩ লাখ। অর্থাৎ সে হিসাবে গত বছর নেটফ্লিক্সের গ্রাহক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৫ শতাংশ। তবে মহামারি একদিকে যেমন নেটফ্লিক্সের গ্রাহক বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কনটেন্টের সুযোগও কমিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রাহক প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে কমলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ লাখ বাড়বে বলে আশা করছে নেটফ্লিক্স। এর আগে তাদের এই পূর্বাভাস ছিল ৫০ লাখ।

আসলে কেবল মহামারি নয়, বাজারে নতুন নতুন স্ট্রিমিং পরিষেবা আসছে, তাই প্রতিযোগিতার মুখেই পড়েছে নেটফ্লিক্স। সম্প্রতি এসেছে ডিজনি প্লাস স্ট্রিমিং পরিষেবা, যার গ্রাহক ইতিমধ্যে ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে নেটফ্লিক্সের এত দিনে গ্রাহকসংখ্যা ২৯ কোটি ৭৬ লাখ। গত পাঁচ মাসে ডিজনি প্লাসের নতুন গ্রাহক হয়েছে ৫ কোটি। অন্যদিকে তিন মাসে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক সাবস্ক্রাইবার ৩৯ লাখ ৮০ হাজার।

তবে গ্রাহক কমলেও আয় খুব খারাপ নয় নেটফ্লিক্সের। বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন