default-image

করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই ধাক্কায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমে গেছে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে দেশটিতে মাত্র ৪৯ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে।

খুচরা দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাসিনো, হোটেল—এসব খাতেই চাকরি সবচেয়ে বেশি গেছে। বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস, অর্থাৎ মহামারির শুরু হওয়ার আগের সময়ের চেয়ে কর্মসংস্থান এখন ১০ লাখ কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার এক বক্তৃতায় বলেছেন, ‘অর্থনীতি এখনো বিপদের মুখে আছে, সেটা খুবই পরিস্কার।’ বক্তৃতায় তিনি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের কথা আবার জোর দিয়েছেন। তবে সেটা নির্ভর করছে কংগ্রেসের ওপর।

মহামারির মূল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসেই কর্মসংস্থান বাড়ছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে কর্মসংস্থান কমতে শুরু করে। তার জেরেই জানুয়ারি মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কম। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে কর্মচ্যুতি ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। ধারণা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের কাজ যাবে, কিন্তু বাস্তবে কাজ গেছে ২ লাখ ২৭ হাজার মানুষের।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কাজ খোঁজা মানুষের সংখ্যাও কমে গেছে। প্রায় ৪ লাখ মানুষ শ্রমবাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

এখন জো বাইডেনের ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ পাস হলে সিংহভাগ পরিবার ১ হাজার ৪০০ ডলারের প্রণোদনা চেক পাবে। যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধুঁকছে, তারাও নগদ টাকা পাবে। এ ছাড়া কোভিড পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রমে বিপুল বিনিয়োগ হবে।

সিনেটে অল্প কিছু ভোটে এই প্রণোদনা প্যাকেজ পাস হয়েছে, যদিও রিপাবলিকানরা এর বিরোধিতা করেছেন। এখন সেটা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে যাবে। সেখানেও প্রস্তাবটি সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে জানুয়ারি মাসে যে হারে কর্মসংস্থান হয়েছে, সেই হারে চলতে থাকলে মার্কিন শ্রমবাজারের আগের অবস্থায় ফেরত যেতে ১৭ বছর লেগে যাবে।

সূত্র: বিবিসি

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন