বিজ্ঞাপন

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বড় কোনো কোম্পানি নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও তার বিপরীতে খুব কম কর দেয়। বিষয়টি হলো, কোম্পানিগুলো কর কম এমন দেশে হেডকোয়ার্টার স্থাপন করে। ফলে মুনাফার বিপরীতে তাদের কম কর দিতে হয়। যেমন ২০১৮ সালে ফেসবুক যুক্তরাজ্যে ২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কর দেয়। অথচ ওই বছর ফেসবুকের আয় ছিল ১৬৫ কোটি ডলার।

মূলত ফেসবুকের আন্তর্জাতিক হেডকোয়ার্টার ডাবলিনে থাকায় এই কর দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা। নতুন জি-৭ চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিগুলো বিশ্বের যে দেশেই ব্যবসা করুক না কেন, বিক্রির ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা হলেই কর বেশি দিতে হবে। সেই হিসাবে কর হবে ২০ শতাংশ।

দ্বিতীয়ত, কর ব্যবস্থায় আরেকটি যে পরিবর্তন আসবে তা হলো ন্যূনতম করহার। এটি ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হচ্ছে। দেখা যায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করার জন্য অনেক দেশ অভ্যন্তরীণ কর কমিয়ে দেয়। এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করাই এর মূল লক্ষ্য। এই চুক্তি হলে ফেসবুক-আমাজনের মতো কোম্পানিগুলো করের ক্ষেত্রে যে সুবিধা পেত, তা বন্ধ হয়ে যাবে। কোম্পানিগুলো নতুন এই করের আওতায় আসবে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে কোম্পানিগুলো যেসব দেশে ব্যবসা করে সেসব দেশের সরকারের হাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থ আসতে পারে, যা দিয়ে তারা মহামারি মোকাবিলায় ব্যয় সংকুলানের নতুন পথ পাবে।

ইতিমধ্যে একে ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে ধুঁকতে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের অর্থনীতি চাঙা করতে পারবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।

আর ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, সবার জন্য যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়, এমন ভাবেই চুক্তিটি করা হয়েছে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন