বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় বিভিন্ন দেশ উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়াচ্ছে। যেমন ভারত সম্প্রতি তিন মাসের মধ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল আমদানি করেছে। এদিকে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্যরা রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে করোনার যে প্রভাব পড়েছিল, তা কাটিয়ে তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আরেক রপ্তানিকারক রাশিয়াও জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে থাকতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যের ইরানও অধিক পরিমাণ তেল রপ্তানি করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়া নিয়ে ইতিমধ্যে পূর্বাভাস দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। একদল বলছে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলারে উঠবে তো অন্য দল বলে দিচ্ছে তা ৯০ ডলার ছুঁয়ে ফেলবে। আবার আরেক দলের পূর্বাভাস, ১০০ ডলারে উঠবে তেলের দাম।

সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষকেরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস শেষে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়ে ৮০ ডলারে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সম্প্রতি পূর্বাভাস দিয়েছে, আসন্ন শীত মৌসুমে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে উঠবে, যা তাদের এর আগেকার প্রাক্কলনের চেয়ে ১০ ডলার বেশি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলারে উন্নীত হবে।

গোল্ডম্যান স্যাকস মনে করে, শীতের তীব্রতা যদি বেশি বেড়ে যায়, তাহলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে দৈনিক চাহিদা বাড়বে নয় লাখ ব্যারেল।

এদিকে তেল ব্যবসার বড় প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগারা বলেছে, কোভিডের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২২ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ মার্কিন ডলারে উঠবে। ট্রাফিগারার মুখ্য অর্থনীতিবিদ সাদ রাহিম বলেন, ‘দাম বাড়লেও আমরা বাজারে তেলের চাহিদায়ও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করছি। করোনাভাইরাস এবং করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট আসার মধ্যেও বৈশ্বিক বাজারে তেলে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

সাদ রাহিম আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, ২০২২ সালে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারে উঠবে।’

এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় যখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ডেলটা ভ্যারিয়েশন দেখা দেয়, তখন ট্রাফিগারা বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেরেমি উইয়ারও এক অনলাইন বিতর্কে একই রকম পূর্বাভাসের কথা বলেছিলেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক দুটি ঝড়ের পর তেলের চাহিদা বাড়ছে। সেই তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। এ কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোয় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক দুটি ঝড়ের পর তেলের চাহিদা বাড়ছে। সেই তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। এ কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোয় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট চলছে।

এদিকে প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত জুলাইয়ে এক পূর্বাভাসে বলেছে, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষ দিকে আবার করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আইইএর মতে, ২০২১ সালে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা মোটামুটি বাড়বে। আগামী বছরে জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও মাস তিনেক আগে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কোভিড-১৯-এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা গিয়েছিল, তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডট কম, সিএনবিসি ও রয়টার্স।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন