বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীনের স্টেট ব্যুরো অব গ্রেইন অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল রিজার্ভ গত বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা ধাপে ধাপে জাতীয় ভান্ডার থেকে তেল ছাড়বে। তারা তেল পরিশোধনকারী ও পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলোর কাছে এই তেল বিক্রি করবে।

এক বিবৃতিতে ব্যুরো বলেছে, উন্মুক্ত নিলামের মধ্য দিয়ে ভান্ডারের তেল বাজারে বিক্রি করা হলে দেশীয় বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে। এতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তারা আরও বলেছে, এভাবে বাজারে তেল ছাড়া হলে কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম পরানো হবে। এতে উৎপাদনশীল কোম্পানিগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে।

এদিকে চীনের এই ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

চীনা সরকার অবশ্য বলেনি, তারা ঠিক কতটা তেল বিক্রি করবে। তবে বিক্রি করাটা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে তার বিপদ। সে জন্য গত কয়েক বছর ধরে তারা জরুরি ভিত্তিতে তেলের মজুত গড়ে তুলবার চেষ্টা করছে। চীন সাধারণত তেলের মজুত নিয়ে তেমন কোনো তথ্য প্রকাশ করে না, তবে ২০১৭ সালে তারা বলেছিল, দেশের নয়টি অঞ্চলে তারা বড় আকারের নয়টি ভান্ডার গড়ে তুলেছে, যার সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ৩৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন।

এ ছাড়া চীন আরও বলেছিল, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তারা সাড়ে আট কোটি টন তেলের ভান্ডার গড়ে তুলতে চায়, যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রে ভান্ডারের সমান, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ যার নাম। এটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুত ভান্ডার।

টানা কয়েক বছর জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারে কমার পর গত বছরের শেষ নাগাদ বাড়তে শুরু করে। কোভিড সংক্রমণের শুরুর দিকে সারা বিশ্ব যখন লকডাউনে, তখন জ্বালানি তেলের দরব্যারেলপ্রতি মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে গিয়েছিল। সেখান থেকে তেলের দর ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূলত ওপেক ও রাশিয়া যৌথভাবে তেলের উৎপাদন হ্রাস করে দাম বাড়াতে সক্ষম হয়।

কিন্তু চীনের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশের জন্য তেলের বাড়তি দাম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণেই তারা এভাবে ভান্ডারের তেল বাজারে ছেড়ে দামে লাগাম পরানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন