default-image

২০০৭-০৮ সালের আর্থিক মন্দায় বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। এবার কোভিডের সময় দেখা যাচ্ছে, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধনী দেশ থেকে উন্নয়নশীল—সব দেশের ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী এক বছরে যুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

দেশটির ফেডারেশন অব স্মল বিজনেসেস (এফএসবি) বলেছে, সরকারের নতুন সহায়তা ছাড়া আড়াই লাখের বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এফএসবি আরও বলেছে, এদের টিকিয়ে রাখার তরিকা তারা বাতলে দিতে পারবে। তাদের আশা, মন্ত্রীরা সেই পরামর্শ গ্রহণ করবে। কাজ হারিয়ে যেসব কর্মী স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত আছেন, তাঁদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

১ হাজার ৪০০ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করেছে এফএসবি। এদের মধ্যে ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আশঙ্কা, এ বছরই ঝাঁপ বন্ধ করতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুপাতে দেশটির আড়াই লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এফএসবির জাতীয় চেয়ারম্যান মাইক চেরি বলেছেন, ‘আবারও যে হারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে ব্যবসাসহায়ক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে না।’

এফএসবির আরেকটি আশঙ্কা হচ্ছে, ছোট ছোট কোম্পানির পরিচালকেরা সাধারণত বেতন নেন না। তাঁরা লভ্যাংশ পান। কিন্তু তাঁরা সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছেন না। এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও কম নয়—৭ লাখ থেকে ১১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে সংখ্যাটা। এফএসবির প্রস্তাব অনুসারে, সরকারের ডাইরেক্ট ইনকাম সাপোর্ট স্কিমের আওতায় তাঁদের সাড়ে ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ার কথা আছে। এতে তিন মাসের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন তাঁরা। তবে যাঁদের বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার পাউন্ডের কম, এই প্রস্তাব শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বিজ্ঞাপন

এফএসবি বলেছে, সরকারের রাজস্ব বিভাগের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চলতি মাসেই সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা করছে তারা।

এদিকে ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একই অবস্থা। করোনা ও দীর্ঘ লকডাউন বহু ছোট ব্যবসায়ীর কোমর ভেঙে দিয়েছে। ইদানীং দোকান-বাজারে বিক্রিবাট্টা কিছুটা বাড়লেও অনেকেই আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই হারাতে বসেছেন। তার ওপরে ব্যবসার বড় অংশ ছিনিয়ে নিচ্ছে নেট বাজার। এ অবস্থায় বাজেটের জন্য দেশটির কেন্দ্র সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি–দাওয়া পেশ করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ব্যাপার মণ্ডল। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

সেই তালিকায় সুদে ছাড়ের সুবিধাসহ ব্যবসায়িক ঋণের কথা যেমন আছে, তেমনই আছে আয়কর ছাড়ের আরজি। ব্যাপার মণ্ডলের দাবি, অংশীদারি ব্যবসা ও সীমিত দায়যুক্ত অংশীদারি সংস্থার (এলএলপি) ক্ষেত্রে আয়করের হার কোম্পানি করের মতো ২২ শতাংশ করা হোক, এখন যা ৩০ শতাংশ।

খুচরা অনলাইন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়া ছোট ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নেট বাজারগুলোর ওপর ৫ শতাংশ হারে কর বসানোর দাবিও তুলেছেন। বলেছেন, সবাইকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ দিতে ওই কর জরুরি।

মন্তব্য করুন