বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখানেই শেষ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এবার নীতি সুদহার বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহামারির সময় যাতে তারল্যের সংকট না হয়, সে জন্য তারা এত দিন নীতি সুদহার বৃদ্ধি করেনি। কিন্তু এ বছর একাধিকবার নীতি সুদহার বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

এই খবরে নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। বলা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোতেও অনুভূত হবে।
এদিকে সোমবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির হারও এ বছরের শেষ নাগাদ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ২৫ জানুয়ারি নতুন যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করবে আইএমএফ, সেখানে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

আইএমএফ বলেছে, মুদ্রানীতিতে ফেডারেল রিজার্ভের সুপরিকল্পিত এই রাশ টানার প্রভাব উদীয়মান অর্থনীতিতে খুব কমই অনুভূত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মজুরি বাড়ছে, আর সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, এই বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে। তাতে ফেডারেল রিজার্ভ আবার দ্রুত হারে নীতি সুদ বৃদ্ধি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ আজ বলেছে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝঞ্ঝা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, দ্রুততার সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার বৃদ্ধি এবং মহামারির পুনরুজ্জীবনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

আইএমএফের ব্লগে বলা হয়েছে, ফেড নীতি সুদহার বৃদ্ধি করলে বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজার এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী আর্থিক পরিস্থিতি আরও অনমনীয় হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের চাহিদা কমে বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। অনেক দেশ থেকে পুঁজি অন্য দেশে পাচার এবং উদীয়মান দেশে মুদ্রার অবনমন হতে পারে।

ব্লগে আরও বলা হয়েছে, যেসব উন্নয়নশীল দেশে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি এবং যাদের চলতি হিসাবের স্থিতি নিম্নমুখী, তাদের মুদ্রার মান ইতিমধ্যে বেশি কিছুটা ওঠানামা করেছে, ডলারের সাপেক্ষে।

আইএমএফ আরও বলেছে, যেসব উন্নয়নশীল দেশের মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বেশি এবং যাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা আছে, তাদের উচিত হবে দ্রুত মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে নীতি সুদহার বৃদ্ধি করা। মুদ্রানীতির রাশ টেনে ধরতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। আর যেসব দেশের বিদেশি মুদ্রায় ঋণ আছে, তাদের উচিত হবে হেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া।

অন্যদিকে উদীয়মান দেশের সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে আইএমএফ।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন