বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রস্তাব করা হয়। সেটি হলো বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে নেপাল সীমান্তের কাঁকরভিটা পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেওয়া। মূলত বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী সীমান্ত দিয়েই নেপালের সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য হয়। এখন নেপাল সীমান্ত থেকে ভারতীয় ট্রাক পণ্য বোঝাই করে বাংলাদেশ সীমান্তে এনে দেয়। এর মানে, ভারত নেপালের পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট করে। বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়নি ভারত। ভারত বলেছে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে যেসব দ্বিপক্ষীয় কৌশল বা ব্যবস্থা আছে, তাতে এভাবে তৃতীয় দেশে যাওয়ার জন্য স্থলপথ ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে অবাধ যান চলাচল চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি সম্ভব হবে।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিনটি রেল সীমান্ত আছে। এগুলো হলো গেদে, রাধিকাপুর ও হলদিবাড়ী। এই তিনটি স্থানে রেলপথের পাশাপাশি সড়কপথেও সীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভারত এ বিষয়ে আরও অধিকতর পরীক্ষা–নিরীক্ষা করতে চায়। এ ছাড়া বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আসা পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রেন ফিরে যাওয়ার সময় খালি যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে, ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। ভারতীয় পক্ষ সরাসরি এ প্রস্তাবের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব না দেখালেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর আশ্বাস দিয়েছে।

দুই দেশের এসব প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা স্থলপথে বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা–সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। রপ্তানি ও আমদানি—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ছে। বিবিআইএন কার্যকর হলে অবাধে যান চলাচলের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান অনেকাংশে হয়ে যেত। তিনি জানান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে ৪৮ বছর লেগেছে। এ বছর তা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর মানে, গত চার বছরে ১ বিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সভায় ভারতীয় পাঁচটি স্থলবন্দরের সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। এগুলো হলো পেট্রাপোল, আগরতলা, ডাউকি, সুতারকান্দি ও শ্রীমন্তপুর। ভারত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং কয়েকটিতে অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশ লাভবান হবে। স্থলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

রামগড় দিয়ে দ্রুত পণ্য নিতে আগ্রহী ভারত

গত বছরের মার্চ মাসে ভারতের ত্রিপুরার সাব রুম ও বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত পথ উদ্বোধন করা হয়। দুই দেশের সরকারপ্রধান তখন ফেনী নদীর ওপর দিয়ে একটি সেতু উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ভারতের আগ্রহ, যত দ্রুত সম্ভব এই পথটি চালু করা। দিল্লির ওই বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রামগড় এলাকায় দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ দেন ভারতীয় প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা তাঁদের আশ্বাস দেন।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়নে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চেংড়াবান্ধা-বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে রাত আটটা পর্যন্ত পণ্যবাহী যান চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ভারত। বর্তমানে এই সীমান্ত দিয়ে সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাণিজ্য হয়। পাশাপাশি এ স্থলবন্দরের পার্কিং–সুবিধা ও গুদামঘরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়েছে। পাশাপাশি আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা বৃদ্ধিরও তাগিদ দিয়েছে ভারত।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন