বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর বাজারে চালু থাকা নোটের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ১৭ লাখ কোটি রুপি। আর নোট বাতিলের ঠিক আগে ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বরে ছিল ১৭ দশমিক ৭৪ লাখ কোটি রুপি।

গত সংসদ অধিবেশনে মোদি সরকারের দাবি ছিল, অর্থনীতিতে ব্যাংক নোটের সংখ্যা নির্ভর করে জিডিপির হার, মূল্যবৃদ্ধি, খারাপ নোট বদলের গতি ও নগদের বাইরে অন্যান্য পদ্ধতিতে লেনদেন বৃদ্ধির ওপর। গত বছর করোনার শুরু থেকেই অধিকাংশ মানুষ হাতের কাছে নগদ অর্থ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তার জেরে ২০২০ সালের অক্টোবরে নোটের মূল্য ২০১৯ সালের চেয়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯ কোটি রুপি বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৮৮ লাখ কোটি রুপি। অথচ আর্থিক কর্মকাণ্ড শুরু হলেও এবার সেটা তো কমেনি, উল্টো গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এবার নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৬৩ কোটি রুপি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতে ব্যাংক নোটের মূল্য ও সংখ্যা বেড়েছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৭ ও ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে বেড়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৮ ও ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আবার পাল্লা দিয়ে এ সময় বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন। ইউপিআই ব্যবস্থায় গত মাসে ৪২১ কোটি লেনদেনের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে ৭ দশমিক ৭১ লাখ কোটি রুপি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নোট বাতিলের পর প্রথম বছরে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছিল, তার প্রভাব ইতিমধ্যে কমে এসেছে। তার ওপর জিএসটি ব্যবস্থা চালু আছে, অর্থনীতির ঝিমুনি ও করোনা মানুষের খরচের অভ্যাস বদলে দিয়েছে। আবাসন উপদেষ্টা অ্যানারকের চেয়ারম্যান অনুজ পুরী ইকোনমিক টাইমসকে জানান, নগদ লেনদেন একেবারে বন্ধ না হলেও আবাসন খাতে তার ভূমিকা কমেছে।

তবে এপ্রিলে প্রকাশিত রিজার্ভ ব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর ও ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের ছয়টি শহরের মানুষের লেনদেনের পছন্দের মাধ্যম ছিল ব্যাংক নোট। বিশেষত ৫০০ রুপির কম লেনদেনের ক্ষেত্রে। ফলে এ অভ্যাস খুব দ্রুত বদলাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন