default-image

জীবনের উত্থান-পতন আসে—এ কথা সবার জানা। তবে হঠাৎ আসা কোনো ঢেউ সামলানো বেশ কঠিন। করোনা যেন তেমনই এক ঢেউ। গত এক বছরে বিশ্বের অসংখ্য মানুষের ভাগ্য পাল্টে দিয়েছে করোনা। কেউ ধনী থেকে দরিদ্র হয়েছেন, আবার কেউ লাভে লাভে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। চাকরি হারিয়েছেন অনেকে, স্থানান্তর হতে হয়েছে অনেককে। এত এত ঘটনার জন্ম দিয়েছে করোনা, বলে শেষ করা যাবে না। সম্প্রতি বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এমনই কিছু মানুষের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা বাধ্য হয়ে চাকরির ক্ষেত্র পাল্টেছেন।

ক্রিস্টোফার বেইলি পেশায় একজন পাইলট। দুই দশক ধরে ব্রিটিশ ভ্রমণ সংস্থা থমাস কুকে পাইলট হিসেবে চাকরি করেছেন তিনি। তবে ২০১৯ সালে দেউলিয়া হয়ে যায় থমাস কুক। আর কাজ হারান ক্রিস্টোফার বেইলি। অবশ্য বেশি দিন বেকার থাকেননি বেইলি। মাসখানেকের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটসে চাকরি হয়ে যায় তাঁর। সেখানে এয়ারবাস এ৩৮০ চালাতেন তিনি। ২০২০ সালে নতুন এই চাকরি হয় তাঁর। চাকরি পেয়েই যুক্তরাজ্য থেকে দুবাই পরিবার নিয়ে চলে যান বেইলি। যুক্তরাজ্যের নিজের গাড়ি, বাড়ি—সবকিছু বিক্রি করে দেন। নতুন জীবন খুবই উপভোগ করছিলেন বেইলি। একেবারে নতুন শুরু, সবকিছুই চমৎকার লাগছিল তাঁদের।

বিজ্ঞাপন

তবে সুখ বেশি দিন থাকেনি। নতুন চাকরিতে ঢোকার ছয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। করোনা নামক ওই ভাইরাস তছনছ করে দেয় এভিয়েশন শিল্প। বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের সব ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। বসিয়ে রাখা হয় লাখ লাখ উড়োজাহাজ। মে মাসে আবার কাজ হারালেন বেইলি। তবে এবার বেইলির জন্য স্পষ্টতই বিষয়টি খুবই কঠিন হয়ে পড়ল। নতুন জায়গায় চাকরি হারিয়ে বেকার। যে পরিস্থিতি, তাতে আরেক জায়গায় কাজ পাওয়াও কঠিন। যুক্তরাজ্যে ফিরে এলেন বেইলি। বেইলি বলেন, যা ছিল, তা দিয়ে আমরা দুবাই থেকে ফোনের মাধ্যমে একটি বাড়ি কিনেছিলাম, আমাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। দুবাইয়ের শিপিং কনটেইনারে জিনিসপত্র নিয়ে আসি।’

হাতে কোনো কাজ নেই, দিশেহারা হয়ে পড়েন বেইলি। ছোটখাটো যা পাচ্ছিলেন, তাতেই আবেদন করে চলেছিলেন। গুদামঘরের অপারেটর থেকে শুরু করে গাড়ির চালকের কাজের জন্যও আবেদন করেন। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দেননি চাকরিদাতারা। আসলে একজন পাইলটকে এ ধরনের কাজে নেওয়া চাকরিদাতার জন্যও বেশ কঠিন। পুরোপুরি বিষয়টা বুঝতে পারেন বেইলি। অবশেষে গত অক্টোবরে কাজ জুটাতে সক্ষম হন বেইলি। সুরক্ষা সংস্থা জিফোরএসের কোভিড-১৯ টেস্টিং সাইটে একটি কাজ পান তিনি। এক মাসের মধ্যে ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি হয় তাঁর।

বেইলির মতো করোনা মহামারির শিকার এমন অনেক পাইলটকে সারা বিশ্বে এ শিল্প ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেবল ইউরোপে গত নভেম্বর পর্যন্ত ১০ হাজার বাণিজ্যিক পাইলট বেকার হয়েছেন।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন