default-image

এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিগুলো কোভিডের প্রভাবে দীর্ঘ মন্দার কবলে পড়েনি। তবে এখন ইউরোপ-আমেরিকায় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এখন তাদের শুধু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে এর প্রভাবে তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া যেন ব্যাহত না হয়।
তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। গত মাসে তাদের শিল্পোৎপাদন বেড়েছে ৭ শতাংশ। খুচরা বিক্রি বেড়েছে ৪ শতাংশ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখলেও কোভিডের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে তারা। নতুন করে লকডাউন দিতে হচ্ছে দেশে দেশে।

এর মধ্যে জাপানও জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ। বার্ষিক হিসাবে রূপান্তরিত করলে তা দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ভারত এখনো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে না পারলেও তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের সংকোচনের হার অনেকটাই কমেছে। অক্টোবরে তাদের শিল্পোৎপাদন এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত তিন সপ্তাহে ভারতে সংক্রমণের হার গড়ে ৪ শতাংশের মতো। অর্থাৎ তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে তারা ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখলেও কোভিডের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে তারা। নতুন করে লকডাউন দিতে হচ্ছে দেশে দেশে। এর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সম্প্রতি বলেছেন, এই সংকট থেকে বের করে আনতে মার্কিন অর্থনীতিতে আরও প্রণোদনা দিতে হবে।
অন্যদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড চলতি মাসের শুরুতে সতর্ক করে দেয়, নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় দেশটি দ্বিতীয় দফায় মন্দার কবলে পড়তে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।

বিজ্ঞাপন

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এশিয়া অর্থনীতি বিভাগের প্রধান লুইস কুইজস সিএনএনকে বলেন, ‘মূলত ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করায় এশীয় দেশগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভালো করছে।’ তিনি ধারণা করছেন, নতুন বিধিনিষেধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আবার সংকুচিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ না হলেও চলতি প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।

এখন পশ্চিমা পৃথিবীর এই সংকোচনই এশিয়ার কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাণিজ্য অংশীদারের পরিস্থিতি খারাপ হলে তাদের রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্লেষকেরা মনে করে, এশীয় অর্থনীতি বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে। সে জন্য পশ্চিমের মন্দাভাব তাদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এশিয়ার একার পক্ষে তো আর বিশ্ব অর্থনীতি টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

ভরকেন্দ্র সরে যাচ্ছে

চীনা সরকার সম্প্রতি বিশ্বের অন্যান্য স্থানে মহামারির প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। চীনের পরিসংখ্যার ব্যুরোর মুখপাত্র ফু লিংঘুই বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ চীনের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও এ বছর চীনের বাণিজ্য বেড়েছে।

তবে লুইস কুইজস আশা করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সংক্রমণ বাড়লেও তাতে এশীয় অর্থনীতির পথচ্যুত হওয়া উচিত হবে না, যদিও প্রভাব পড়বে। এশীয় দেশগুলো নতুন করে কঠোর লকডাউনে না গেলে ইউরোপ ও আমেরিকার দুর্বলতা তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দুর্বল করতে পারে, তাকে আবার সংকোচনের দিকে ঠেলে দেবে না।
পাশাপাশি এশিয়ায় চীনের নেতৃত্বে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে—

রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই চুক্তিভুক্ত দেশগুলোয় বসবাস করে এবং এক-তৃতীয়াংশ জিডিপির জোগান দেয় তারা। আট বছরের চেষ্টায় চীন এই চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের অধীনে ২০১৭ সালে টিপিপি থেকে বেরিয়ে গেছে। ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নিয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, যারা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সফল হচ্ছে, তারাই অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম—সবার বেলাতেই একই কথা প্রযোজ্য। লকডাউনে অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতি হয়, তা এখন সবাই বুঝতে পারছে। কিন্তু সংক্রমণ বাড়লে লকডাউন দেওয়া ছাড়া উপায়ও থাকে না। তাই জীবন ও জীবিকা আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0