বিজ্ঞাপন

খুচরা ব্যবসার জগতে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক নাম। এখন তাদের ২৫৪টি পূর্ণাঙ্গ দোকান আছে। তারা মূলত পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও খাদ্য বিক্রি করে। তাদের ভাষ্যমতে, এই দোকানগুলোর মধ্যে অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে আছে। ফলে তাদের পক্ষে এখন নতুন বিনিয়োগ করা কঠিন।

আগামী এক দশকে ৩০টি দোকান ধারাবাহিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া আরও ৮০টি দোকান নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হবে অথবা স্থানীয় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হবে।

লকডাউনের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের কেনাবেচা একদম কমে যায়। সে কারণে দেখা যায়, ১৩৬ বছরের পুরোনো এই চেইন শপের পোশাক ও গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রি গত বছর ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।

মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার অবশ্য যুক্তরাজ্যের সরকারি সহযোগিতা পেয়েছে। এতে তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে গেছে। কর্মীদের মজুরি দিতে পেরেছে তারা।
তবে যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা করছে তারা। ফলে এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াবে বলেই প্রত্যাশা করছে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার।

তবে সংকট থেকে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। বিবিসির প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেখা যাচ্ছে, এই সংকটের পর কোম্পানি হিসেবে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তারা এখন গ্রাহকের চাহিদা বোঝার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন বিক্রিতে জোর দিচ্ছে তারা।

এত দিন মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার ব্যবসায় মুনাফা করেছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে গত বছর তাদের ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে। কোভিডের পাশাপাশি পুনর্গঠনের কারণেও তাদের ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে এখন তারা কর্মী ছাঁটাই করছে এবং ইন্টারনেটে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।

এদিকে পোশাকের ব্যবসা কমে গেলেও খাবারের ব্যবসা ৭ শতাংশ বেড়েছে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারের। ওকাডো নামের এক গ্রোসার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বদৌলতে খাদ্য ব্যবসায় তাদের এই উন্নতি। ওকাডোর সঙ্গে আরেকটি যৌথ অনলাইন উদ্যোগে সফলতা মিলছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে তাদের মোট বিক্রির বেশির ভাগই এই উদ্যোগ থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোভিড থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ শেষমেশ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গত বছরটা এমন গেছে যে সেখান থেকে তেমন কোনো উপসংহারে পৌঁছার সুযোগ নেই।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন