বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জরিপে দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে নারীর উন্নতি নিশ্চিতে এখনো কিছু বিষয় অধরা রয়ে গেছে। যেমন জরিপের শীর্ষ ৩০০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ২০টির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন নারীরা।

ফোর্বস-স্ট্যাটিস্টার এই জরিপে নারীবান্ধব কোম্পানি হিসেবে শীর্ষস্থানটি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যপণ্য, পানীয় ও তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হার্শি কোম্পানি। ১৮৯৪ সালে মিল্টন এস হার্শলি নামের এক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠা করা এই কোম্পানির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হলেন মিশেল বাক। তিনি দায়িত্ব পান ২০১৭ সালে। কোম্পানিটির ১২৭ বছরের ইতিহাসে মিশেল বাকই প্রথম ও একমাত্র নারী সিইও। শুধু তা–ই নয়, এখন কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে ৪২ শতাংশই হলেন নারী। তারা ২০২৫ সাল নাগাদ নারী কর্মীর হার বাড়িয়ে মোট কর্মীর ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। এই হার বর্তমানে ৪৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে কোম্পানির নেতৃত্বে নারীর হার ৪২ শতাংশে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা এখন ৩৭ শতাংশ।

হার্শি কোম্পানি ২০২০ সালে করোনার মধ্যে নারী ও পুরুষ কর্মীর বেতন সমান পর্যায়ে নিয়ে আসে। এখন বৈশ্বিক কার্যক্রমেও নারী-পুরুষের বেতন সমান করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান কোম্পানির চিফ ডাইভারসিটি অফিসার অ্যালিসিয়া পেত্রোস।

করোনার কারণে হার্শি কোম্পানি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় নারী কর্মীদের শিশুযত্ন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করবে।

ফোর্বস–স্ট্যাটিস্টার তালিকার শীর্ষ ৯–এ থাকা জুম ভিডিও কমিউনিকেশন তাদের কর্মী নিয়োগের নীতিমালা পুনর্গঠন করেছে। নারী ও পুরুষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব না ঘটে এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, সে জন্য কোম্পানিটি কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। জুম ভিডিওর চিফ পিপল অফিসার লিন ওল্ডহ্যাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, জুম ভিডিও নারী কর্মীদের অফিসের নির্ধারিত কাজের বাইরে দাতব্য কার্যক্রমেও নিয়োজিত রাখার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

করোনাকালে সশরীর কর্মস্থলে গিয়ে কাজ করতে না পারার কারণে বিশেষ করে বয়স্ক নারী কর্মীদের অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। বিধিনিষেধের জেরে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং ব্যয়সাশ্রয়ের কারণে অনেকেই ছাঁটাই হয়েছেন। আবার বেতন ও মজুরি কমেছে আরেকটি অংশের। ২০২০–২১ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে নারী কর্মী ছাঁটাই হলেও আশার কথা হচ্ছে, নারীবান্ধব কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে আরও বেশি করে নারী কর্মী নিয়োগ ও তাঁদের বেশি সুযোগ–সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। ফলে ২০২২ সাল হয়ে উঠতে পারে নারী কর্মীদের বছর। সুতরাং হতাশ হওয়ার দরকার নেই বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন। কারণ, বিশ্বের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় কাজের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বেশি বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের নির্মাণ খাত ও নার্সিং পেশায় জনবলের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক জায়গায়ই এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কর্মী ও শ্রমিকেরা মজুরি বা বেতন নিয়ে বেশি দর–কষাকষি করতে পারবেন।

নারীবান্ধব কোম্পানির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও লজিস্টিক সেবাদাতা সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস। কোম্পানিটির বর্তমান জনবল প্রায় ১৭ হাজার। তৃতীয় অবস্থানে আছে জার্মান প্রকৌশল ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মেইলি গ্রুপ। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিতে এখন প্রায় ২১ হাজার কর্মী কাজ করেন।

সুইডেনের নির্মাণ, তেল ও গ্যাস উত্তোলন এবং খনি ও রাসায়নিক কোম্পানি স্কানস্কা রয়েছে চতুর্থ স্থানে। ১৮৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানির এখন জনবল ৩৪ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রের আইটি, ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার সেবাদাতা সিট্রিক্স সিস্টেম আছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৯ হাজার কর্মী কাজ করেন।

সবচেয়ে নারীবান্ধব কোম্পানি হিসেবে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে—লুক্সেমবার্গের প্রযুক্তি, মিডিয়া ও বিজ্ঞাপনি প্রতিষ্ঠান স্পটিফাই টেকনোলজি; জার্মানির ওষুধ ও জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেরেক কেজিএজি ডার্মাস্তাদৎ; যুক্তরাষ্ট্রের প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রেতা আপ্টার গ্রুপ; যুক্তরাষ্ট্রের আইটি, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার সেবাদাতা জুম ভিডিও কমিউনিকেশন এবং স্পেনের ইউটিলিটিজ বা উপযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইবারদ্রোলা।

সূত্র: ফোর্বস, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন