default-image

করোনাজনিত অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিদায়ী ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী গাড়িশিল্পে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিদায়ী বছরে বিশ্বে মোট গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ৮ কোটি ৯০ লাখ ইউনিট। কিন্তু উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ১০ লাখ গাড়ি, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট বা ২০ শতাংশ কম। গাড়িশিল্প নিয়ে পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান এলএমসি অটোমোটিভ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় গাড়ি উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ফোর্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেল মুসতাং মাচ-ই এবং তেসলার ওয়াই মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন কোম্পানির নানা মডেলের গাড়ির উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে।
তবে চীন ইতিমধ্যে তার বেশির ভাগ মোটরগাড়ি উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে। অন্যরাও চেষ্টা করছে। এলএমসি বলছে, ইউরোপ-আমেরিকার গাড়িশিল্পও ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তাদের পুনরুদ্ধার হবে চীনের তুলনায় ধীর গতিতে। চীনে ২০২০ সালে গাড়ি উৎপাদন কমেছে ১২%।

এদিকে যুক্তরাজ্যে বিদায়ী ২০২০ সালে নতুন গাড়ি উৎপাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে ৯ লাখ ২১ হাজারে নেমে এসেছে। এই সংখ্যা দেশটিতে ১৯৮৪ সাল-পরবর্তী ৩৬ বছরে সর্বনিম্ন সংখ্যক গাড়ি উৎপাদনের রেকর্ড।

বিজ্ঞাপন

সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড ট্রেডার্সের (এসএমএমটি) প্রধান মাইক হাওস জানান, ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে মোট ৯ লাখ ২০ হাজার ৯২৮টি গাড়ি তৈরি হয়, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ কম। তিনি বলেন, কনরোনা মহামারির কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় এবং গ্রাহকের চাহিদাও কমে যাওয়াই এ প্রজন্মের সবচেয়ে কমসংখ্যক গাড়ি উৎপাদনের মূল কারণ। তবে তিনি এ-ও শোনান, ভ্যাকসিন বা টিকার প্রয়োগ শুরু হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য চুক্তি চলতি ২০২১ সালের জন্য আশাবাদের সঞ্চার করেছে। যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম গাড়ির বাজার হলো ইইউ, যেখানে দেশটিতে উৎপাদিত গাড়ির ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ রপ্তানি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া—এই তিন দেশে যুক্তরাজ্যের গাড়ি রপ্তানি যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ, ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে চীনে রপ্তানি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ও তাইওয়ানে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: গ্লোবালফ্লিট ডট কম ও বিবিসি

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন