বিধিনিষেধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চীনের বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাই। গত বছর চীনের মালামাল পরিবহনের ২০ শতাংশ হয়েছিল সাংহাই বন্দর দিয়ে। এখন সেই বন্দরের কার্যক্রম একেবারেই স্থবির। এই প্রদেশের অধিবাসীরাও মানবেতর জীবন যাপন করছে। সিএনএন জানিয়েছে, এই প্রদেশের খাদ্যঘাটতি ও অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি খেতে দিতে না পেরে অনেকে পোষা প্রাণী হত্যা করছে বলেও খবর দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

চায়নিজ বিশ্ববিদ্যালয় হংকংয়ের তথ্যানুসারে, সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের কারণে প্রতি মাসে চীনের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৬০ কোটি ডলার—দেশটির মোট জিডিপির ৩ শতাংশের বেশি। এ পরিস্থিতিতে চীন যে বার্ষিক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, তা অর্জন করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বব্যাংক অনেকটা একই কথা বলেছে। গত সপ্তাহে তাদের পূর্বাভাস ছিল, এ বছর চীনের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫। চলমান স্থবিরতা চলতে থাকলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ শতাংশে ঠেকবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর এই ক্ষতি কেবল চীনেই থেমে থাকবে না, গোটা বিশ্বই কমবেশি প্রভাবিত হবে এর দ্বারা।

ঝুঁকি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের চীন অঞ্চলের প্রধান মাইকেল হিরসন বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। অন্তত আগামী ছয় মাস পর্যন্ত অর্থনৈতিক অস্থিরতা থাকবে।

কঠোর এই বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে কিছুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন বিশ্লেষকেরা। তবে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা সেই সতর্কবাণী খুব একটা মূল্যায়ন করছেন না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন