ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয়েছে, শেষমেশ তা হয়তো বাতিলও হতে পারে। কিন্তু ব্রেক্সিট ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে ব্রিটিশরা ব্রেক্সিট গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে পাউন্ড নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে এবং বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মতে, ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এই দুই বছরের মধ্যে ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়নে থাকার সিদ্ধান্ত নিলে এমনটা হতো না বলেই মনে করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গণভোটের পর প্রতি সপ্তাহে দেশটির উৎপাদন কমেছে ১০০ কোটি ডলার এবং সপ্তাহের হিসাবে তা দাঁড়ায় ৬০ লাখ ডলার। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য সম্পর্কে কাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি। তার আগেই ক্ষতির পরিমাণ এমনটা দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে রাজনীতিবিদেরা বিচ্ছেদের ধরন নিয়ে বিরতিহীন আলোচনা চালিয়েই যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো এখনো সহজেই ইইউ কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারছে। সরবরাহ ব্যবস্থাও জাতিগত সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সমস্যাটা হয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। আগামী তিন বছরে বাণিজ্যের ধরন কী দাঁড়াবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় কোম্পানিগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারছে না। অনেক বিনিয়োগ স্থবির বা বাতিল হয়ে গেছে। অনেক কোম্পানি আবার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে কী করণীয় হবে, তার পরিকল্পনা করতে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে—ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে বিশৃঙ্খলা হলে কী করণীয়।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতি এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। এখনো এমন ঝুঁকি আছে যে ক্রান্তিকালীন চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বলেছে, পরিস্থিতি সে রকম হলে তার পরিণতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হবে।

কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড দ্য ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস এই পরিস্থিতি নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। তারা বলছে, রাজনীতিকেরা যদি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের ব্যাপারে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য জাতীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের উদ্দেশে এক চিঠিতে তারা বলেছে, ব্রিটেনের কোম্পানি ও সমাজ এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নয়। এতে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লাগবে, তার রেশ কয়েক প্রজন্মকে বয়ে বেড়াতে হবে।

এদিকে অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি যুক্তরাজ্য থেকে তাদের ইউরোপীয় কার্যালয় সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। সনি ও প্যানাসনিক ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডসে কার্যালয় সরিয়ে নিয়েছে। আর্থিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা যুক্তরাজ্য থেকে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ সেখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা আগের বছর ছিল ৮০০ বিলিয়ন ডলার। এতে আর্থিক খাতে ৭ হাজার কর্মী বেকার হয়ে যেতে পারেন।

অন্যদিকে জাপানি গাড়ি কোম্পানি নিশানও যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করেছে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন