ভারতে খুচরা বিক্রি ৭৯ শতাংশ কমেছে

কোভিড– ১৯ অতিমারি শুরু হওয়ার আগে ভারতে খুচরা পর্যায়ে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হতো, সেই তুলনায় এখন অনেক কম হচ্ছে। যেমন গত মে মাসে ২০১৯ সালের মে মাসের চেয়ে খুচরা বিক্রি ৭৯ শতাংশ কমেছে। কোভিড সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ভারতজুড়ে রাজ্যে রাজ্যে লকডাউন জারি হওয়ায় এমনটা ঘটেছে। রিটেইলারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

পশ্চিম ও উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে গত মে মাসে খুচরা পর্যায়ে পণ্য বিক্রি ২০১৯ সালের একই মাসের চেয়ে ৮৩ শতাংশ কমেছে। এটিই দেশটিতে এই সময়ে খুচরা বিক্রিতে সর্বোচ্চ পতন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরিস্থিতিতে বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে গত মে মাসে খুচরা পর্যায়ে পণ্য বিক্রি ২০১৯ সালের একই মাসের চেয়ে ৮৩ শতাংশ কমেছে। এটিই দেশটিতে এই সময়ে খুচরা বিক্রিতে সর্বোচ্চ পতন। একই সময়ে পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে খুচরা পণ্য বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশ। তবে দক্ষিণ ভারতে কমেছে সবচেয়ে কম। ওই অঞ্চলে একই সময়ে খুচরা বিক্রি কমেছে ৭৩ শতাংশ। আরএআই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

রিটেইলারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) জরিপ অনুযায়ী, পণ্য ভিত্তিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গেছে রূপচর্চার পণ্য ও প্রসাধনসামগ্রী। মে মাসে এ ধরনের পণ্য বিক্রি ২০১৯ সালের একই মাসের চেয়ে ৮৭ শতাংশ কমেছে।

তবে মে মাসের তুলনায় তার আগের মাস এপ্রিলে ভারতে খুচরা বিক্রি অতটা কম হয়নি। আরএআইর জরিপ অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায় খুচরা পর্যায়ে পণ্য বিক্রি কমে ৪৯ শতাংশ।
রিটেইলারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) জরিপ অনুযায়ী, পণ্য ভিত্তিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গেছে রূপচর্চার পণ্য ও প্রসাধনসামগ্রী। মে মাসে এ ধরনের পণ্য বিক্রি ২০১৯ সালের একই মাসের চেয়ে ৮৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পাদুকা বিক্রি কমেছে ৮৬ শতাংশ। রেস্তোরাঁয় বিক্রির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ৭০ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্য ও মুদিপণ্যের বিক্রি অবশ্য সর্বনিম্ন ৩৪ শতাংশ কমেছে।

রাজ্যগুলো থেকে যেহেতু লকডাউন উঠতে শুরু করায় দোকানপাট খুলছে ,সেহেতু পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে। তবে খুচরা ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বেতন, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন ধরনের করসহ লাইসেন্স ফি পরিশোধ মিলিয়ে মোটামুটি আর্থিক চাপের মধ্যে থাকবে।
কুমার রাজগোপালন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা , আরএআই

আরএআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কুমার রাজগোপালন বলেন, ধীরে ধীরে লকডাউন উঠতে শুরু করায় এখন খুচরা বিক্রেতারা চলতি জুন মাসে বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ার আশায় আছেন। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে খুচরা বিক্রেতাদের অবস্থার উন্নয়নে সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। আরএআইও অবশ্য আশা করছে, রাজ্যগুলো থেকে যেহেতু লকডাউন উঠতে শুরু করায় দোকানপাট খুলছে ,সেহেতু পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে। তবে খুচরা ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বেতন, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন ধরনের করসহ লাইসেন্স ফি পরিশোধ মিলিয়ে মোটামুটি আর্থিক চাপের মধ্যে থাকবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করে রিটেইলারস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই)। সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড