বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, কোভিড-লকডাউনের ধাক্কায় পুরো ভারতেই একই অবস্থা। দিশাহারা বহু গৃহস্থ ও ছোট ব্যবসায়ী। তাই তপাঁরা বাধ্য হচ্ছেন সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা ধার করতে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানেও সেই করুণ বাস্তবতার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে সোনা বন্ধক রেখে ধার নেওয়ার পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। গত বছর মার্চের শেষে তা ছিল প্রায় ৩৩ হাজার কোটি রুপি, যখন কোভিড সংক্রমণ মোকাবিলায় লকডাউনে সব বন্ধ। সেই বিধিনিষেধ শিথিলের পরে সে বছর আগস্টে স্বর্ণঋণ বেড়ে ৩৭ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছায়। আর এ বছরের আগস্টে তা-ই রকেট গতিতে বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ৬৩ হাজার কোটিতে। ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের মধ্যে স্বর্ণঋণের হার ২ দশমিক ১ শতাংশ, দুই বছর আগে যা ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা, ব্যাপারটা সাংস্কৃতিক। ভারতে সোনার গহনাকে কার্যত ঘরের লক্ষ্মী হিসেবে বিবেচিত হয়। আর কোনো উপায় না থাকলে মানুষ গহনা বন্ধক রেখে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন। এই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিতেই পরিষ্কার, অর্থনৈতিক সঙ্কট কতটা গভীর। করোনাকালে বহু মানুষের চাকরি গেছে, বেতন কমেছে, ব্যবসা মার খেয়েছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে, যার প্রতিফলন আরবিআইয়ের তথ্যে।

শীর্ষ ব্যাঙ্ক সূত্রের ব্যাখ্যা, তা-ও এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাঙ্ক, মুথুট, মল্লপুরমের মতো স্বর্ণঋণ সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের খতিয়ানই আছে। অসংখ্য মানুষ সোনার দোকানে বা মহাজনের কাছে গহনা বন্ধক রেখে ধার করলেও সেই হিসাবেএখানে প্রতিফলিত হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিসংখ্যান তো আর পাওয়া যায় না। তাই আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ছবি যোগ হলে বোঝা যাবে, সঙ্কট ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও গহনা বন্ধক রেখে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। কারণ, টাকা শোধ না হলে গহনা বিক্রি করে বকেয়া উদ্ধার করা সহজ।

এই সংক্রান্ত প্রশ্নে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, 'এ কথা ঠিক, অর্থনীতির সঙ্কটে মানুষকে গহনা বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়েছে। কিন্তু স্বর্ণঋণ বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে কমেছে। গত বছরের মার্চ থেকে আগস্টে তার পরিমাণ এক ধাক্কায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। এ বছরের মার্চ থেকে আগস্টে মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।'

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন