default-image

আবারও বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে ভারতে। আগে থেকেই ধুঁকতে থাকা ভারতীয় অর্থনীতি কোভিডের ধাক্কায় একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এখন ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ও রপ্তানি খাতকে চাঙা করতে দুই হাজার কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মূলত ১০টি উৎপাদন খাতে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে—১. অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি সেল (এসিসি) ব্যাটারি, ২. বৈদ্যুতিন (ইলেকট্রনিক) ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য, ৩. অটোমোবাইল, ৪. ওষুধ, ৫. টেলিকম ও নেটওয়ার্কিং পণ্য, ৬. বস্ত্রশিল্প, ৭. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ৮. উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরযন্ত্র (সোলার পিভি), ৯. শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, এলইডি টিভিসহ পণ্য, ১০. ইস্পাত উৎপাদনক্ষেত্র।

এর আগে করোনার গ্রাস থেকে অর্থনীতি রক্ষায় এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তুলতে মে মাসে ২০ লাখ কোটি রুপির আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি রূপায়ণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, ‘উৎপাদন খাতে দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও আমাদের সরকার গুরুত্ব দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী “আত্মনির্ভর ভারত” কর্মসূচিতেও সেই লক্ষ্যের কথা বলেছেন। এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

আর্থিক বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎপাদন খাতের পাশাপাশি রপ্তানি খাত চাঙা করাও মোদি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

তৃতীয় দফা এই প্যাকেজ ঘোষণা নিয়ে কিছুদিন ধরেই জল্পনাকল্পনা চলছিল। অর্থনীতিবিদেরাও বলছিলেন, নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ দরকার। এই পরিস্থিতিতে ৫ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদি ভার্চ্যুয়াল গ্লোবাল ইনভেস্টর রাউন্ডটেবিল ২০২০-এ নেতৃত্ব দেন। ভারতের কেন্দ্র সরকার আয়োজিত এই অনলাইন বিনিয়োগ বৈঠকে বিশ্বের প্রথম সারির বিনিয়োগ কোম্পানিগুলো ছাড়াও ভারতীয় শিল্পপতিরা অংশ নেন।

বৈঠকের লক্ষ্য ছিল, ভারতের অর্থনৈতিক ও লগ্নিসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি, কাঠামোগত সংস্কার ও অর্থনীতিকে পাঁচ লাখ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা। সেই সঙ্গে ভারতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় খোঁজা।

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, এই প্যাকেজ ভারতকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে অনেক দূর নিয়ে যাবে। মূলত বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে নিতে এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি বা দেশজ উৎপাদন সংকুচিত হয় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে পরের প্রান্তিকে অর্থনীতির পালে কিছুটা হাওয়া লাগার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অক্টোবরে দেশটির জিএসটি আদায় এক লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদনশিল্পের সূচক পিএমআই অক্টোবরে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে উঠেছে।

কিন্তু তারপরও শঙ্কা কাটছে না ভারতের। সরকারি পরিসংখ্যানে জানা যায়, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বৃদ্ধির পর অক্টোবরে আবারও কমেছে, ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আর এপ্রিল থেকে অক্টোবর—সাত মাসে রপ্তানি সংকুচিত হয়েছে ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া জুন ত্রৈমাসিকে বিএসইতে নথিভুক্ত বড় ১৫৫টি ব্যাংক, আর্থিক ও বিমা কোম্পানি ৪ দশমিক ৩৯ লাখ কোটি টাকা আয় হারিয়েছে, জানিয়েছে উপদেষ্টা ইওয়াই ইন্ডিয়া। জ্বালানির চাহিদা মার খাওয়ায় টানা ছয় মাস অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে ভারতের।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ভারতীয় সংসার চালাতে প্রাথমিকভাবে ধারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0