ভারতে ৩ মাস পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি

জ্বালানি তেল
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় তিন মাস পর ভারতে আবার বাড়ল জ্বালানির দাম। দেশটির পেট্রল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত সোমবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য। পেট্রলের দাম ৮৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়াল প্রতি লিটার ১০৫ দশমিক ৫১ রুপি। অন্য দিকে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৮৩ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯০ দশমিক ৬২ রুপি। আর প্রতি সিলিন্ডার রান্নার গ্যাসের দাম ৫০ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ রুপিতে।

এর আগে ২০ মার্চ যাঁরা বেশি পরিমাণে তেল কেনেন (বাল্ক ইউজার), সেই ক্রেতাদের জন্য ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় লিটারে ২৫ টাকা বাড়িয়েছে ভারতের তেল সংস্থাগুলো। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মোদি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। এতে রেলের খরচ বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও মাথা তুলবে এবং শিল্পের ব্যয় ও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে বলে অভিযোগ তাদের। ইকোনমিক টাইমস সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।

বিরোধী দলের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা টুইটে বলেন, ভারতের বেশি পরিমাণে তেল কেনার ক্ষেত্রে অগ্রগামী রেল ও সেনাবাহিনী। ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট রেলের বাল্ক ডিজেলের সরবরাহের বড় অংশই দুটি বড় বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেল প্রতিদিন ৬৫ লাখ লিটার ডিজেল কেনে। এর দাম ২৫ রুপি করে বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ, দিনে ১৬ দশমিক ২৫ কোটি রুপি এবং বছরে ৫ হাজার ৯৩১ কোটি রুপি বৃদ্ধি পাওয়া।

সুরজেওয়ালা আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তে রেলের ভাড়া, পণ্য পরিবহন খরচ ও বাসভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষত শিল্পের খরচ বৃদ্ধিতে পণ্যের দামও বাড়বে। তাঁর প্রশ্ন, চার রাজ্যে বিধানসভা ভোটে জেতার পরে মোদি সরকার কি মানুষকে এ উপহার দিল?

ভারতের বিশেষজ্ঞরা ধরে নিয়েছিলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই জ্বালানির দাম বাড়াবে কেন্দ্রীয় সরকার। ১০ মার্চ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভারতের বাজারেও পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে সেই পথেই হাঁটল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে এখনো তেল কিনছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ। কিন্তু চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসতে পারে তারা। এই খবরে অপরিশোধিত তেলের জোগান ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সোমবার থেকে বিশ্ব বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। একটা সময় ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৬ ডলার পেরিয়ে যায়, যার বিরূপ প্রভাব পড়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। তবে এ দিন সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তেলের জোগান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের ওপরে হামলার জন্য বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারী দেশ রাশিয়ার উপরে বিভিন্ন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা।