বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিধিনিষেধে উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ায় বড় ব্যবসাগুলো বিপাকে পড়ছে। পশ্চিমা অনেক ব্র্যান্ডই সম্প্রতি বছরগুলোতে চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে তাদের ব্যবসা নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে এই প্রবণতা ত্বরান্বিত হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে ভিয়েতনামের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস অ্যাসোসিয়েশন (ভিটাস) আগস্টে বলেছিল, দক্ষিণে-ভিয়েতনামের কোভিড-১৯–এর বিধিনিষেধের কারণে পোশাক খাতে সরবরাহের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত চেইন ভেঙে গেছে। নাইকি গত সপ্তাহে জানিয়েছিল যে ক্রীড়া পোশাক ঘাটতিতে পড়েছে তারা। বিধিনিষেধ কর্মসূচির কারণে দেশটির দক্ষিণাংশের ৮০ শতাংশ কারখানা এবং দেশের প্রায় অর্ধেক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। নাইকি তাদের জুতার সরবরাহের জন্য বহুলাংশে ভিয়েতনামের ওপর নির্ভরশীল। যদিও কিছু কারখানা ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। যেমন কারখানায় কর্মীদের থাকা–খাওয়ার সব ব্যবস্থা করা, যাতে তাঁদের বাইরে যেতে না হয়, কারখানায় বসেই কাজ করতে পারেন। তবে এটি বেশ খরচসাপেক্ষ।

জনপ্রিয় ইউনিক্লো ব্র্যান্ডের মালিক জাপানের ফাস্ট রিটেইলিং সোয়েটার, সোয়েটপ্যান্ট, হুডি ও ড্রেস নেয় ভিয়েতনাম থেকে। তারা এখন সরবরাহ ঘাটতির জন্য ভিয়েতনামের পরিস্থিতিকে দায়ী করছে। বিপাকে পড়েছে অ্যাডিডাসও। এমনকি বিধিনিষেধ শিথিল হলেও অনেকে ভিয়েতনামের উৎপাদনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। নাইকি ও অ্যাডিডাস বলেছে যে তারা সাময়িকভাবে অন্যত্র থেকে উৎপাদন করার কথা ভেবেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনকে দেওয়া এক চিঠিতে ভিয়েতনাম থেকে উৎপাদন সরে যাওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে ইতিমধ্যে তাদের সদস্য দেশগুলোর ২০ শতাংশ অন্য জায়গায় সরে গেছে। তারা বলছে, ‘একবার উৎপাদন সরে গেলে, এটি ফিরে আসা কঠিন।

মহামারি কেবল ভিয়েতনামের টেক্সটাইলশিল্পকেই নয়, বৈশ্বিক কফি সরবরাহকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বিধিনিষেধের কারণে বিপাকে পড়েছেন এখানকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পণ্য কফির রপ্তানিকারকেরা। এ ছাড়া বৈশ্বিক সরবরাহেও ব্যাঘাত ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম হলো বিশ্বের রোবস্তার কফি বিনের অন্যতম উৎপাদনকারী দেশ। এই তিতকুটে স্বাদযুক্ত কফি মূলত ইনস্ট্যান্ট কফি ও এক্সপ্রেসো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় রপ্তানিকারকেরা পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। বিশ্বব্যাপী এর সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। ভ্রমণনিষেধাজ্ঞার কারণে ইতিমধ্যেই শিপিং কনটেইনারের ব্যাপক ঘাটতি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছেন রপ্তানিকারকেরা।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন