বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মরগ্যান জুরন আরও বলেন, এ ঘটনায় চূড়ান্ত ক্ষতি হয়েছে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর। তবে বিনিয়োগকারীরাও বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। শেয়ারহোল্ডাররা আদালতে এসে দাবি করেছেন যে বোয়িংয়ের পরিচালক ও কর্মকর্তারা এন্টারপ্রাইজ ও শেয়ারহোল্ডারদের মূল্য রক্ষায় বিমানের নিরাপত্তার তদারকে ব্যর্থ হয়েছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের একটি ফ্লাইট আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আছড়ে পড়ে জাভা সাগরে। এর প্রায় পাঁচ মাস পর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বোয়িংয়ের এই মডেলের একটি উড়োজাহাজ আকাশে উড়েছিল কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির উদ্দেশে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আদ্দিস আবাবা থেকে ৬২ কিলোমিটার দূরে এক শহরের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে। দুই ঘটনাতেই ফ্লাইটে থাকা সব যাত্রীর মৃত্যু হয়। পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন আরোহী নিহত হওয়ার পর বিশ্বের অধিকাংশ এয়ারলাইনস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ উড়োজাহাজ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সারা বিশ্বে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্সের উড্ডয়ন স্থগিত হয়ে যায়। পরে তদন্তে দেখা যায়, উড়োজাহাজটির এমসিএএস নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে ত্রুটি ছিল।

এ ঘটনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুরক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য গোপনসংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন বিচার বিভাগকে ২৫০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয় বোয়িং। এ অর্থের ৫০ কোটি ডলার পাবে ম্যাক্স উড়োজাহাজের দুটি দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার। তবে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মামলা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে স্টেকহোল্ডাররা নতুন এ পদক্ষেপ নিলেন।

নতুন এ রুলের বিষয়ে বোয়িংয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বাদীদের মামলা এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এ সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করব।’

২০২০ সালের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং এই বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপ ও কানাডায় ৭৩৭ ম্যাক্স ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চীনে এখনো এর উড্ডয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন