এই পরিস্থিতিতে তিনি মানুষকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। বলেন, মন্দা আসুক বা না আসুক, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তার প্রথমেই আছে শেয়ারবাজার–সংক্রান্ত উল্লিখিত এই পরামর্শ। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পূর্ব শর্ত হলো, বাজারে কখন বিনিয়োগ করতে হবে আর কখন স্টক ছেড়ে দিতে হবে, তা জানতে হবে। বাজার যখন মন্দা, তখন বিনিয়োগ করে সুসময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, অর্থাৎ সূচক ওপরের দিকে ওঠা শুরু করলেই বিক্রির সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

মন্দার সময় বা আগে আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন মিশেল। সেটা হলো, আপনার যদি ক্রেডিট কার্ডে ঋণ বা বকেয়া থাকে, যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব, তা পরিশোধ করতে হবে। নীতি সুদহার বৃদ্ধির কারণে ক্রেডিট কার্ডের সুদহারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এরপর মিশেলের পরামর্শ, যতটা সম্ভব সঞ্চয় করুন। আপনার হয়তো সমস্যা না–ও থাকতে পারে, বেতন না–ও কমতে পারে, কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে কী হবে, তা আমরা জানি না। তাই আপৎকালীন সুরক্ষার জন্য কিছু সঞ্চয় আপনার থাকা উচিত। মন্দা হচ্ছে সঞ্চয়ের আদর্শ সময়, এ সময় অতি প্রয়োজনীয় নয়, এমন ব্যয় না করাই শ্রেয়। লকডাউনের সময়ও মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা গেছে। তখন উন্নত দেশের মানুষের হাতে বড় অঙ্কের টাকা জমে যায়। এখনকার উচ্চ মূল্যস্ফীতির সূত্রপাতও সেখান থেকে।

মন্দার সময় বা আগে আগে অতিরিক্ত কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন মিশেল। এতে মানুষের হাতে অতিরিক্ত কিছু অর্থ জমা হয়। আর শেয়ারবাজারের পাশাপাশি বন্ডেও বিনিয়োগ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। এতে বিনিয়োগ ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

শেষ কথা হলো, মন্দা হোক বা না হোক, এসব কাজ ঠিকঠাক করা গেলে মানুষের পক্ষে মন্দার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়। সে জন্য মিশেল মন্দা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন