বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভার্জিন গ্যালাকটিক

রিচার্ড ব্র্যানসনের বিমান পরিবহন, ক্রুজশিপ বা ভ্রমণ জাহাজ, হোটেল ও জিমের ব্যবসা রয়েছে। এসব ব্যবসায়ে করোনার প্রভাব পড়লেও তিনি মহাকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি। তাঁর স্পেস ট্যুরিজম তথা মহাকাশে ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্যালাকটিক হোল্ডিংস (ভিজিএইচ) জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ও ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মতো খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও এক উড়ানেই পৃথিবীকে চমকে দেন। ভিজিএইচের রকেটে চড়ে তিনি গত ১১ জুলাই মহাকাশে ওড়েন। এটি ছিল ভিজিএইচেরও প্রথম মহাকাশ যাত্রা, যেটির নাম দেওয়া হয় ‘ইউনিট টোয়েন্টি টু মিশন’। ওই যাত্রায় ভিজিএইচের রকেট ৫৩ মাইল ওপর দিয়ে উড়েছিল। আর ভিজিএইচের এই আয়োজনটি ছিল অর্থের বিনিময়ে অর্থাৎ বাণিজ্যিকভিত্তিতে মহাকাশে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার প্রথম ঘটনা। ভার্জিন গ্যালাকটিক তখন জানায়, তারা প্রত্যেক যাত্রীর কাছে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দামে টিকিট বিক্রি করেছে, যা তখন বাংলাদেশের দুই কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো ছিল (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)। ভিজিএইচ ভবিষ্যতে মহাকাশ পর্যটনে যাওয়ার সময় যাত্রীপীছু ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে নেবে বলে জানিয়েছে।

ভার্জিন গ্যালাকটিকের সাবেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ও বর্তমানে ইউকেস্পেসের প্রেসিডেন্ট উইল হোয়াইটহর্ন বলেন, ‘এই উড়ানে স্বয়ং রিচার্ড ব্র্যানসন থাকার ফলে আগ্রহী ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে মহাকাশে যাওয়াটাকে নিরাপদ ভ্রমণ বলে মনে করবেন।’

ব্লু অরিজিন

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে নিজস্ব কোম্পানি ব্লু অরিজিনের নিউ শেফার্ড রকেটে করে মহাকাশে ওড়েন। রকেটটি পৃথিবীতে ফিরে আসার আগে ৬৬ দশমিক ৫ মাইল উপরে ওঠে। তাঁর সহযাত্রী হিসেবে নিজের ভাই ও নেদারল্যান্ডসের ১৮ বছর বয়সী ছাত্র অলিভার ডেমেনসহ আরও তিনজনকে নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত মহাকাশ ভ্রমণকারীদের মধ্যে অলিভার ডেমেনই হলেন সবচেয়ে কম বয়সী। তিনি এর আগে কখনও বেজোসের বৈশ্বিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন থেকে কিছুই কেনেননি। তাঁকে অবশ্য শেষ মূহুর্তে সুযোগ দেওয়া হয়। বেজোসের সঙ্গে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য বিশ্বের ১৫৯টি দেশ থেকে সাড়ে সাত হাজার ব্যক্তি টিকিটের নিলামে অংশ নেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম ওঠে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যিনি এই দাম হাঁকান তিনি না যাওয়ায় তাঁর জায়গায় অলিভার ডেমেনকে নেওয়া হয়।

ব্লু অরিজিনের নিউ শেফার্ড রকেট চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ১৩ অক্টোবর আবার মহাকাশে ওড়ে। এবারে অন্যতম অভিযাত্রী ছিলেন অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার। ফিরে আসার পরে উইলিয়াম শ্যাটনার মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্বের প্রত্যেকেরই এটি করা (মহাকাশে যাওয়া) দরকার। বিশ্বের প্রত্যেকেরই দেখা প্রয়োজন... মহাকাশ যাত্রা ছিল অবিশ্বাস্য ছিল।” চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো গত ১১ ডিসেম্বর মহাকাশে ওড়ে নিউ শেফার্ড। এবারে অভিযাত্রী ছিলেন ছয় জন। যাত্রা শুরু করে, যা ক্রাফটটি ধরে রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

স্পেসএক্স

ইলন মাস্কের গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলা গাড়িশিল্পে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। একইভাবে তিনি তাঁর স্পেসএক্স নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেম মহাকাশ পর্যটনেও যেন বিপ্লব ঘটানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্পেসএক্স-এর ‘ইন্সপাইরেশনফোর মিশন’ নামক মহাকাশে পাড়ি জমায়। তাঁর রকেটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওড়ে। পৃথিবীতে ফিরে আসার আগে তাঁর রকেট মহাকাশের কক্ষপথে তিন দিন অবস্থান করে। স্পেসএক্সের রকেটের ওই উড্ডয়নে মহাকাশে যান বিশ্বের ১,৩৬২তম বিলিয়নিয়ার জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। সেন্ট জুড চিলড্রেন’স রিসার্চ হাসপাতালের জন্য ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্পেসএক্স মহাকাশে পর্যটন নিয়ে যায়। হাসপাতালটিতে ইলন মাস্ক নিজের পকেট থেকে ১০ কোটি ডলার দেন।

রাশিয়া

২০২১ সালে বিভিন্ন দিক থেকে মহাকাশ পর্যটন নতুন মাত্রা পেয়েছে বটে, তবে এই ধারণার উদ্ভাব হয় বেশ কয়েক বছর আগে। যেমন, ২০০৯ সালে সয়ুজ এমএস-২০ নামে রাশিয়ার একটি নভোযান কানাডীয় বিলিয়নিয়ার গাই লালিবার্তেকে নিয়ে মহাকাশে উড়েছিল। গাই লালিবার্তে বর্তমানে বিশ্বের ২,৩৭৮তম ধনী। বড় খবর হল, সয়ুজ আবারও এই ব্যবসায়ে ফিরে এসেছে। সেটি হল, গত ৮ ডিসেম্বর সয়ুজ জাপানি বিলিয়নিয়ার ও চিত্র সংগ্রাহক ইউসাকু মায়েজাওয়া ও তাঁর সহকারী ইওজো হিরানোকে নিয়ে মহাকাশে ওড়ে। ইউসাকু মায়েজাওয়া হলেন বিশ্বের ৩০তম ধনী। ১২ দিনের মহাকাশ ভ্রমণ শেষে আজ তাঁর পৃথীবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

সূত্র: ফিন্যান্স ইয়াহু ডট কম।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন