default-image

যুক্তরাজ্যের সবুজ শক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অক্টোপাস এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ জ্যাকসনের চিন্তাভাবনা বেশ আলাদা। তাই তো বিশ্বের ছোট–বড় সব কোম্পানি যেখানে শুরুতেই চালু করে মানবসম্পদ বিভাগ, সেখানে গ্রেগ জ্যাকসনের ১৪০ কোটি ডলারের কোম্পানিতে নেই কোনো মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ (আইটি)। গ্রেগের অভিজ্ঞতা বলে, এইচআর এবং আইটি বিভাগ আর যাই করুক, কর্মীদের খুশি বা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে না। আর এসব নেই বলেই আজ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি তাঁর। এটাই তাঁর সাফল্যের রহস্য।

২০১৫ সালে অক্টোপাস এনার্জি প্রতিষ্ঠা করা হয়। নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করে কোম্পানিটি। শুরু থেকেই বেশ লাভজনক অবস্থানে এই কোম্পানি। ছয়টি বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিকে যুক্ত করেছে তারা। যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ বাড়িতে সবুজ শক্তি সরবরাহ করছে তারা। প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করছেন তাঁর কোম্পানিতে।

নিজের কর্মীদের বিষয়ে খুবই সদয় গ্রেগ। নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেন তিনি। কোম্পানির শেয়ারের একটি অংশ স্থায়ী কর্মীদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছেন।

এর আগে আয়না উৎপাদন কারখানা, অনলাইন প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, কফি শপসহ আরও পাঁচ কোম্পানি পরিচালনা করেছেন গ্রেগ। ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’–এর পক্ষে তাঁর চরম বিরক্তি। তিনি মনে করেন, ভালো পরিচালনা কাঠামো অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই জন্মে। অক্টোপাসের আগে যে ছোট ছোট পাঁচটি কোম্পানি পরিচালনা করেছেন তিনি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে এইচআর এবং আইটি ইস্যু নিজেই সামলাতে জানান, আলাদা বিভাগের প্রয়োজন হয় না। গ্রেগ বলেন, তিনি তাঁর পরিচালকদের কাছে প্রত্যাশা করেন তাঁরা তৃতীয় পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে এই বিষয়গুলো ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিয়েই করে ফেলবেন। তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি কর্মীদের আরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দেয়।

বিজ্ঞাপন

তবে গ্রেগের এই নিজস্ব দর্শনের পেছনে ছোট্ট একটি গল্প আছে, যা তাঁর মনোভাব পাল্টে দিয়েছিল।

গ্রেগের যখন ২৭ বছর বয়স, নর্থ লন্ডনে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। ওই কোম্পানিতে ৪০ বছর বয়সী এক নারী চাকরি করতেন, যিনি একই সঙ্গে অভ্যর্থনাকর্মী ও গ্রাহকসেবা কর্মী ছিলেন। একদিন গ্রেগ ওই নারীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পান ফোনে তিনি এক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলছেন। গ্রেগ ভাবলেন, ওই নারীকে একটু সাহায্য করি। তিনি তাঁকে বেশ কিছু জ্ঞানী জ্ঞানী পরামর্শ দিলেন।

তখন ওই নারী বলেন, ‘গ্রেগ, কোম্পানি আমাকে যে অল্প বেতন দেয়, তা দিয়ে আমি দুই সন্তান ও পরিবার পরিচালনা করছি। যদি আমি এটি করতে পারি, তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে এই সংস্থা আমার কাছ থেকে যা চায়, আমি তা করতে পারি। আপনি এখানে আসার আগেই আমি এখানে ছিলাম এবং আপনি চলে যাওয়ার পরও আমি এখানে থাকব। আমি আপনার চেয়েও এই কোম্পানিকে বেশি ভালোবাসি, তাই কখনই আমি কী করব, তা বলে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না।’

গ্রেগ বুঝতে পেরেছিলেন ওই নারী ঠিক কথা বলছেন। গ্রেগ বলেন, ওই ঘটনা তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা ছিল। ওই ঘটনাই তাঁকে তাঁর ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে সাহায্য করেছিল।

সূত্র: বিবিসি অনলাইন

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন