default-image

রাত পোহালেই মার্কিন নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কি আবারও হোয়াইট হাউসে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে চান, নাকি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে বেছে নেবেন, সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে অল্প কদিনের মধ্যেই। এখন জনগণের চাওয়া বেশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের, করোনার এই কবল থেকে যেভাবেই হোক মুক্তির পথ খুঁজছেন তাঁরা।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর (এফটি) এক জরিপে দেখা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নাগরিক এখন মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বদলে বরং ক্ষতি করছে। এফটি এবং পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশনের ওই জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বিশ্বাস করেন ট্রাম্পের নীতিগুলো অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন, তাঁর নীতি অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য ঠিক আছে। এই প্রথম বেশিসংখ্যক মানুষ ট্রাম্পের নীতির বিপক্ষে মত দিলেন। ৮ মাস আগেও চিত্রটা একদম আলাদা ছিল।

আসলেই করোনা ট্রাম্পের পাশার দান কিছুটা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এফটির ওই জরিপে আরও দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ মনে করেন এক বছরের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাব থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। অথচ এই বছরের আগের তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র আড়াই শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি দেখেছে। বেকারত্বের হার গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও রেকর্ড কমে ছিল। করোনায় সেই অর্থনীতি পড়েছে মন্দায়। যিনিই নেতৃত্বে যান না কেন, তাঁর সামনে করোনায় বিধ্বস্ত এক অর্থনীতি টেনে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে; যে অর্থনীতি গত এক বছরে ব্যাপক বেকারত্ব, একটি সম্ভাব্য উচ্ছেদ সংকট, দেশজুড়ে ব্যবসা বন্ধ এবং অতিরিক্ত মেডিকেল বিল রেকর্ড করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, এ বছর দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে, তবে আগামী বছর কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে, প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ। এ অবস্থায় অবকাঠামো, কর কাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্য খাতে দুই দল কী নীতি নিচ্ছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন

দুই প্রার্থীর অর্থনৈতিক নীতি

ইনভেস্টোপেডিয়া দুই প্রার্থীর অর্থনৈতিক নীতি তুলে ধরেছে। একনজরে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক-

  • ট্রাম্প ও বাইডেন দুজনেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অবকাঠামোগত বিল চান। তবে এই অর্থ ভিন্ন ভিন্ন খাতে ব্যবহারে আগ্রহী তাঁরা। রিপাবলিকানরা করোনাভাইরাসের প্রণোদনায় এই অবকাঠামোগত ব্যয় করতে চান না, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা তা করতে চান। সেই সঙ্গে বাইডেনের মনোযোগ বেশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়ে।

  • বড় বড় ব্যবসায়ীর ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন বাইডেন। আগামী ১০ বছরে এসব বড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার কর আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মাত্র ১ শতাংশের ওপর ৭৫ শতাংশ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা তাঁর। অন্যদিকে ট্রাম্প চান ২০১৭ সালের করব্যবস্থা ধরে রাখতে।

  • স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে ট্রাম্পের বাজেটে মেডিকেয়ার, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জো বাইডেন, যিনি বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক বেশি পরিচিত, তিনি আস্থা রাখেন ওবামা প্রশাসনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতিই। তিনি স্বাস্থ্য খাতে ওবামাকেয়ার ফিরিয়ে আনবেন, যা ট্রাম্প বাতিল করেছিলেন। জো বাইডেন সব মার্কিনের ৯৭ শতাংশকে এই বিমার আওতায় নিয়ে আসারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন, যাতে বয়স্ক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা লাভ সহজ হয়।

  • ট্রাম্প এখনো চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের বাগ্বিতর্ক থেকে সরে আসেননি। তাঁর এই নীতির জন্য ২০১৯ সালে ৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ে দেশটি। তাদের এই বাণিজ্যযুদ্ধের ধকল সইতে হচ্ছে সারা বিশ্বকেই। অন্যদিকে সবাইকে খেপিয়ে নয়, চীনকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে জোট চান বাইডেন।

  • সবদিক দিয়ে অমিল মনে হলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। তা হলো উভয় প্রার্থীই অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান। তবে ট্রাম্প খুব সম্ভবত ‘আমেরিকান নাগরিক আগে প্রাধান্য’ এই নীতি চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে সর্বনিম্ন মজুরি ১৫ ডলার বাড়াতে চান বাইডেন, ট্রাম্প যা চান না।

এবারে নির্বাচনী স্লোগান হিসেবে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নির্ধারণ করেছেন ট্রাম্প, যা তাঁর আগের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এরই আপডেট ভার্সন বলা চলে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের এই নীতিই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছিল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের নির্বাচনী স্লোগান হলো ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’। এটি বারাক ওবামার ‘চেঞ্জ উই নিড’ স্লোগানের একরকম সংস্করণ।

থিঙ্কট্যাংক দ্য লয়ি ইনস্টিটিউট চমৎকার একটি বিশ্লেষণ করেছে বাইডেনকে নিয়ে। তারা মনে করে, বাইডেন অনেকাংশেই ওবামা প্রশাসনের ছায়া। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়া অনেকটা তৃতীয় মেয়াদে ওবামা প্রশাসন আসার মতো হবে। এখন জনগণই নির্ধারণ করবেন করোনার এই কঠিন সময়ে আগামী চার বছরের জন্য কোন স্লোগানে একাত্ম হবেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0