default-image

২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকোচন হয়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই, এর কারণ হচ্ছে কোভিডজনিত বিধিনিষেধ। দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) বলছে, ‘প্রবৃদ্ধির হিসাবরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এর আগে সর্বোচ্চ যে সংকোচন হয়েছিল, এটা তার দ্বিগুণের বেশি।’

গত বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংকোচন হয়েছিল যুক্তরাজ্যের। তবে বছরের শেষ দুই প্রান্তিকে সংকোচন হার কমে আসে। এমনকি ডিসেম্বর মাসে ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও হয়। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, সংকোচন হার দুই অঙ্কের ঘর ছোঁবে। তবে শেষমেশ তা হয়নি। ওএনএসের তথ্যমতে, হোটেল-পর্যটন, গাড়ি ও কেশ বিন্যাসের ব্যবসা বছরের শেষ প্রান্তিকে অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অর্থ হলো, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশ। সে কারণেই ১৯৭০-এর দশকের পরপর দুই দফা মন্দা ঠেকাতে পেরেছে।

ওএনএসের উপজাতীয় পরিসংখ্যানবিদ জোনাথন অ্যাথাও বিবিসিকে বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও চিহ্নিতকরণ বেড়ে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির পালে গতি লেগেছে। সে কারণে চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম প্রবৃদ্ধির হার পরিমাপ করা হয়। এরপর থেকে কখনোই কোনো বছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশের বেশি সংকোচন হয়নি। তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আবার ভিন্ন কথা বলছে। তারা বলছে, ২০২০ সালের সংকোচন ১৭০৯ সালেরও চেয়েও মারাত্মক হতে পারে।

ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান সুরেন থিরু বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা মন্দা এড়ানো গেলেও মোট উৎপাদন মহামারি-পূর্ব সময়ের চেয়ে অনেক কম। আর ২০২০ সাল তো যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো অধ্যায়। সে কারণে সংকোচনের হার হ্রাস নিয়ে উল্লসিত হওয়ার তেমন কিছু নেই।’

এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‘পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত বছর আমাদের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তবে শীতকালে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।’

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা এই বসন্তকাল পর্যন্ত থাকবে। ফলে আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত অর্থনীতিকে ধাক্কা সইতে হবে।
বিবিসির অর্থনৈতিক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম বলেছেন, কার্যত দ্বিতীয় দফা মন্দা এড়ানো গেছে। কিন্তু কোভিড সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থনীতিতে আবার শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও চ্যান্সেলরকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। নতুন লকডাউনের কারণে প্রবৃদ্ধিতে আবারও প্রভাব পড়েছে। তবে সেটা হয়তো গত বছরের এপ্রিল মাসের মতো নয়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবার তক্কে তক্কে আছে, অর্থনীতি চালু হলেই নতুন ব্যয় করবে তারা। টিকার কারণে অর্থনীতিতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। কিন্তু সেটা কখন ঘটবে, তা কেউ বলতে পারে না।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন