বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইট আওয়ার জানিয়েছে, এই বড়দিনের সপ্তাহান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বা বাইরে প্রায় ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিলম্বিত হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টির বেশি ফ্লাইট।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) জানিয়েছে, তারা বড়দিনের ছুটির সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ২১ লাখ যাত্রীর ভ্রমণের তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া গত ১০ দিনের মধ্যে ৭ দিনই ২০ লাখের বেশি ভ্রমণ-ইচ্ছুক যাত্রীর পরীক্ষা করা হয়েছে। সপ্তাহ শেষে ভ্রমণের এই ভোগান্তি সোমবারও অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিএনএন জানিয়েছে, তিন কারণে এই ভ্রমণজট ও বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অমিক্রন ধরনের দ্রুত বিস্তার, বিমানভ্রমণ–সংশ্লিষ্ট খাতে জনবলের ঘাটতি ও বিমানযাত্রীদের অত্যধিক ভিড়।

লাভের মুখ দেখার আগেই অমিক্রনের ধাক্কা
করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো যখন ভাবছিল, তারা আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে এবং লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে, সেই সময়ে দেখা দিল অমিক্রন ধরন। বড়দিনের আগের দিন শুধু নিউইয়র্কে ৪৯ হাজারের বেশি লোকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিমান পরিবহনে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনস (ইউএএল) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সংস্থাটির শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর কারণ, নির্ধারিত রুটে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রু ছিল না তাদের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দেশব্যাপী অমিক্রনের সংক্রমণে বিমান ক্রু ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে।
দেশটির অপর বিমান সংস্থা ডেলটা এয়ারলাইনস একই কথা জানিয়েছে। ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ডেলটা এয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘যাত্রীদের দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন ডেলটার কর্মীরা।’

আকাশপথে ভ্রমণ পুনরায় বেড়েছে
অমিক্রনের সংক্রমণ শুরুর আগে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অবসরকালীন আকাশভ্রমণে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিএসএ) হিসাবে, বড়দিনকালীন শুক্র ও শনিবারের অবসর ভ্রমণের পরিমাণ এখন কোভিড–পূর্ববর্তী সময়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, কোভিড-১৯–পূর্ববর্তী ২০১৯ সালে বড়দিন ও নববর্ষের সপ্তাহে প্রায় ১২ কোটি (১১৯ মিলিয়ন) মার্কিন নাগরিক ভ্রমণ করেন। এ বছর এ সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি (১০৯ মিলিয়নের বেশি)। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬৪ লাখ (৬.৪ মিলিয়ন) যাত্রী আকাশপথে ভ্রমণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। অতিরিক্ত এই যাত্রীর চাপও চলমান ভ্রমণজট সৃষ্টির কারণ।

শ্রমিক ঘাটতি
করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত ক্রু খুঁজে পাচ্ছে না। এর মধ্যে অমিক্রনের সংক্রমণ সেই কর্মী ঘাটতিকে আরও তীব্র করে তুলছে। কর্মী ঘাটতির কারণে বিমান ক্রুদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, কিন্তু তারপরও বেশির ভাগ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক পাইলট ও বিমানসেবক অভিযোগ জানিয়েছেন, কাজ করার সময় সরকারনির্দেশিত নিয়মানুসারে প্রয়োজনীয় হোটেলকক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় তাদের সদস্যরা বড়দিন উৎসবের মতো বড় অনুষ্ঠানে চাপে পড়েছেন।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন