default-image

ভারতের শিল্পপতি রতন টাটা কেবল সাফল্যই নয়, মানবিকতা ও বিনয়ের জন্যও সুপরিচিত। প্রায়ই মানবিক আচরণের জন্য খবরের শিরোনাম হন তিনি। এই তো সেদিন অসুস্থ সাবেক কর্মীকে দেখতে মুম্বাই থেকে পুনে ছুটে গিয়েছিলেন রতন টাটা। কোনো মিডিয়া বা কাউকে সঙ্গে না নিয়েই হুট করে ওই কর্মীর বাড়িতে হাজির হন তিনি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বাইরে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা রতন টাটাকে দেখে হতভম্ব হয়ে যান ওই কর্মী।

এ রকম নানা মজার গল্প রয়েছে রতন টাটাকে নিয়ে। সে রকমই একটি মজার ঘটনা বলব আজ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন রতন টাটা। পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বিষয়টি আপ্লুত করে রতন টাটাকে। এ উপলক্ষ সে সময় নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সঙ্গে একটি ‘ধন্যবাদ’ নোট দেন তিনি। ওই নোটে তিনি লেখেন, ‘আমি মাত্র দেখলাম যে এই প্রোফাইলে অনুসারীর সংখ্যা একটি মাইলফলকে পৌঁছেছে। আমি যখন এই মাধ্যমে যোগ দিই, তখন এত চমৎকার একটি অনলাইন পরিবার প্রত্যাশা করিনি। আমি আপনাদের এ জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি বিশ্বাস করি যে ইন্টারনেটের এই যুগে আপনার যে মানের সংযোগ আপনারা স্থাপন করেছেন, তা যেকোনো সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আপনাদের সম্প্রদায়ের অংশ হওয়া এবং আপনার কাছ থেকে শেখা সত্যই উত্তেজনাপূর্ণ। বিষয়টি আমাকে খুব আনন্দ দেয়, আমি আশা করি আমাদের একসঙ্গের এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় রতন টাটার এই পোস্ট। পোস্টটি শেয়ারের পাশাপাশি অনেকেই এতে মন্তব্য করেন। এর মধ্যে রিয়া জৈন নামের এক নারী একটি ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘অভিনন্দন ছোটু’। রিয়ার ওই মন্তব্যও ভাইরাল হয়ে যায়। তবে রতন টাটাকে ছোটু বলে সম্বোধন করায় অনেকেই রিয়াকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ রিয়ার কমেন্টের নিচে লেখেন এটি লজ্জাজনক, অসম্মানজনক মন্তব্য। ব্যাপকভাবে ট্রল হতে থাকেন রিয়া। এর মধ্যে রিয়া এই সম্বোধনের ব্যাখ্যাও দেন। তিনি বলেন, ‘ছোটু’ তাঁর খুবই প্রিয় একটি শব্দ। রতন টাটা হলেন ‘প্রত্যেকের জন্য আদর্শের’ প্রতিমূর্তি। তাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে প্রিয় নামে ডেকেছেন।

এরপরও সমালোচনা থামছিল না। তখন সবাইকে অবাক করে রতন টাটা নিজেই মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি ওই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আচরণ করুন।’ এদিকে ট্রলের শিকার হয়ে রিয়া পরে ওই মন্তব্য মুছে ফেলেন।

রিয়ার প্রতি মানুষের এই আচরণ যে রতন টাটাকে কষ্ট দিয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এরপর রতন টাটা ইনস্টাগ্রামে এ বিষয়ে পরপর তিনটি পোস্ট করেন। প্রতিটি পোস্টে হাজার হাজার মানুষ লাইক দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। রতন টাটার বিনয়–মানবিকতার প্রশংসা করেছেন সবাই।

১৯৩৭ সালে বর্তমান মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন রতন টাটা। তিনি টাটা মোটরস, টাটা স্টিল, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, টাটা পাওয়ার, টাটা গ্লোবাল বেভারেজ, টাটা কেমিক্যালস, ইন্ডিয়ান হোটেলস এবং টাটা টেলিজ সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন