গাজপ্রোমব্যাংকের নির্বাহীদের ওপর এই প্রথম কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপ রাশিয়ার প্রধান গ্যাস আমদানিকারক। গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে, এমন চিন্তায় বারবারই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশগুলো।

বাইডেন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি না। গাজপ্রোমব্যাংকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করছি না কিংবা কোনো প্রকার লেনদেন নিষিদ্ধ করছি না। গাজপ্রোমব্যাংক যে শতভাগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়-সেই সংকেত দিচ্ছি। তাই আমরা প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কয়েকজন নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি।

রাশিয়ার ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ এসবার ব্যাংকের হাতে। সেই ব্যাংকের আটজন নির্বাহীকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মস্কো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক ও তার অধীন ১০টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

সাতটি জাহাজীকরণ কোম্পানিসহ অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি প্রোমতেখনোলজিয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কমিশন রাশিয়ার বিশেষ পারমাণবিক পণ্য রপ্তানির লাইসেন্সও স্থগিত করবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

এদিকে রাশিয়া ও বেলারুশের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মোট ১৭০ কোটি ইউরোর বাণিজ্য লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে জি৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসচিব অ্যান মেরি ট্রেভেলান বলেন, ইউক্রেনে পুতিনের অবৈধ আগ্রাসন দুর্বল করতে এবং তাঁর লক্ষ্য নস্যাৎ করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। সুদূরপ্রসারী নিষেধাজ্ঞার এই প্যাকেজ রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র ভান্ডারের ক্ষতি করবে।

মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার তৈরিতে প্লাটিনাম ও পেলাডিয়াম ব্যবহার করা হয। দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তহবিল জানিয়েছে, প্লাটিনাম ও পেলাডিয়ামে নতুন করে আমদানি কর প্রযোজ্য হবে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিক, রাবারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি। যুক্তরাজ্যের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পণ্যের দাম আকাশ ছোঁবে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, পুতিনের ইউক্রেন আগ্রাসনের ফলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই বর্বরোচিত যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। আমদানি ও রপ্তানিতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা পুতিনের যুদ্ধের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও জানান তিনি।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে অনেক পশ্চিমা দেশ ইতিমধ্যে রাশিয়ার ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ আছে। যুক্তরাজ্য নিজেদের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে রুশ ব্যাংকগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে, অনেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। এ ছাড়া ম্যাকডোনাল্ডস, কোকাকোলা, স্টারবাকসসহ হাজার খানিক আন্তর্জাতিক কোম্পানি রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লোকাশেঙ্খো রাশিয়াকে সাহায্য করা এবং যুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্য সরকারের এই নিষেধাজ্ঞায় বেলারুশকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন