সরবরাহ সাময়িক এ বন্ধের ঘোষণা স্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার গ্যাসের চালান পুনরায় শুরু না–ও হতে পারে। এ জন্য ইইউ দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

রবার্ট হ্যাবেক বলেন, জার্মানি রাশিয়ার গ্যাসের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ‘অস্ত্র হিসেবে’ গ্যাসকে ব্যবহার করছে রাশিয়া। তবে এই অবস্থা কাটাতে জার্মানি চেষ্টা করছে। দেশটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রস্তুত হবে বলে জানান তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা ৫৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করেছে জার্মানি। দেশটি রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চায়।

জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়ার পরের অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে (৩১ শতাংশ) ও নেদারল্যান্ডস (১৩ শতাংশ)। রাশিয়া থেকে আমদানি কমিয়ে জার্মানি এখন নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস থেকে বেশি গ্যাস কিনছে।

প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় নর্ড স্ট্রিম–১ পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলে। তাই শীতের তুলনায় এই সময় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকে। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউরোপের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে সংকটে পড়েছে ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিও। দেশটির একটি জ্বালানি কোম্পানি জানিয়েছে, তারা গত কয়েক দিনে প্রায় এক–তৃতীয়াংশ কম গ্যাস পাচ্ছে। ইউরোপের অপর দুই দেশ অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র নর্ড স্ট্রিম–১ লাইন থেকে কিছু পরিমাণে গ্যাস পায়।

ইতিমধ্যে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে রাশিয়া। দেশগুলো গ্যাসের মূল্য পরিশোধে রাশিয়ার দেওয়া নতুন নিয়ম মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানানোর পরে সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাশিয়া।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এ জন্য ইউরোপকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন