default-image

করোনা থেকে বাঁচতে সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর টিকার দিকে। সম্প্রতি দুটি সুখবর পাওয়া গেছে। একটি হলো মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও বায়োএনটেক জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। দ্বিতীয়টি এসেছে গতকাল সোমবার। মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্না দাবি করেছে যে তাদের টিকা প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর। এ দুই সংবাদেই করোনাভাইরাসে পর্যুদস্ত বিশ্ব আশার আলো দেখছে। আর এ আশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। শেয়ারবাজার এখন চাঙা, যেকোনো সময়ের চেয়ে অনন্য উচ্চতায় রয়েছে বিভিন্ন সূচক। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আশঙ্কাকে ছাপিয়ে এখন বিনিয়োগকারীরা অভিলাষী হয়ে উঠেছেন।

শেয়ারবাজার মূলত দুই ধরনের আবেগে চালিত। ভয় ও লোভ। বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের একটি মজার মন্তব্য রয়েছে। একবার তিনি বলেন, ‘আপনি ভয় করুন যখন অন্যরা লোভ করে, আর লোভ করুন যখন অন্যরা ভয় করে।’

শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে কথাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাজার অনুভূতি নিয়ে কাজ করে সিএনএন বিজনেস ইনডেক্স। সিএনএন বিজনেসের এই ‘ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স’, যা বিনিয়োগকারীদের অনুভূতি বেশ কয়েকটি মানদণ্ড পরিমাপ করে। তারা বলছে, বিনিয়োগকারীদের অবস্থান এখন ‘লোভীর’ পর্যায়ে রয়েছে। এবং তাদের এই অবস্থান ‘চরম লোভের’ পর্যায় থেকে খুব বেশি দূরে নয়। কীভাবে কাজ করে এই ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স? এই ইনডেক্সের সব মানদণ্ডেরই একই স্কোর। সামগ্রিক স্কোর শূন্য থেকে ১০০। বিনিয়োগকারীরা সম্প্রতি কীভাবে কাজ করছেন, সেই হিসাব দিয়ে স্কোর পরিমাপ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায়, এ বছরের মার্চের ১২ তারিখ এই সূচকের স্কোর ছিল ২। অর্থাৎ চরম আশঙ্কায়। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ সূচক পড়ে। কেন? কারণ কয়েকটি।

  • ১.ওই দিন করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের জন্য মার্কিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার জারি করেন।

  • ২. বেশ কয়েকটি খেলার টুর্নামেন্ট ওই দিন স্থগিত করা হয়।

  • ৩. জনপ্রিয় অভিনেতা টম হ্যাংকস ও তাঁর স্ত্রী জানান, তাঁরা করোনায় আক্রান্ত।

  • ৪. এর আগের দিন, অর্থাৎ ১১ মার্চ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অর্থাৎ ওই দিন কোভিড-১৯ বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিকের কাছে বাস্তব রূপে ধরা দেয়। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভীতি ছিল চরম পর্যায়ে।


এখন বর্তমানে আসি। ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স এখন দৃঢ়ভাবে ‘লোভ’ পর্যায়ে রয়েছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী, যেকোনো সময় ভ্যাকসিন আসছে। ভ্যাকসিন পারবে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থাতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। এ আশার কারণে করোনার সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলার পরও বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিনিয়োগে লোভী হচ্ছেন তাঁরা।

চাঙা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পুঁজিবাজারও। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক লেনদেন শেষে বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্যারিসের পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। জার্মানির বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

গতকাল বিশ্বের বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ছিল চাঙা। গতকাল মডার্নার টিকার খবর কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৯ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাবে ব্যাপক ইতিবাচক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালস্ট্রিটের প্রধান সূচক ডাও জোন্স। সূচকটি ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

default-image

অন্যদিকে অন্য দুটি সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ ও নাসডাক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। চাঙা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পুঁজিবাজারও। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক লেনদেন শেষে বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্যারিসের পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। জার্মানির বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ছিল ফাইজার, এ সপ্তাহে মর্ডানা—দুই টিকার সুখবর। আশা জাগিয়ে তুলেছে যে আগামী বছর বিশ্ব স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে পারে। অন্য বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরিতেও অগ্রগতি রয়েছে। গ্লোবাল ইনডেক্স এমএসসিআই অনুযায়ী বৈশ্বিক শেয়ারগুলোর দাম বেড়েছে। মহামারির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলোর শেয়ারের দর এখন সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। ভ্রমণ খাত আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোর শেয়ারের দর বাড়ছে হুহু করে। এটিও বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা দূর হওয়ার প্রতিফলন।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে ইউএস ব্যাংক ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের চিফ ইক্যুইটি কৌশলবিদ টেরি স্যান্ডভেন বলেন, কোভিড-১৯ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং এর ভ্যাকসিনের অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদের মধ্য দিয়ে এখন বাজার পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বল্প সুদের হার, প্রণোদনা এবং চিকিৎসার অগ্রগতি ‘গ্লাস অর্ধেক পূর্ণ’ দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0