default-image

জীবনে সফল হওয়ার জন্য আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার। ঘর থেকে শুরু করে অফিস, সবখানেই এর প্রয়োজন। আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ভাষায় এর নাম হচ্ছে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ট্যালেন্টস্মার্টের এক জরিপে দেখা গেছে, করপোরেট জগতের শীর্ষ পারফরমারদের ৯০ শতাংশের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা উচ্চমাত্রার।

এই আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মূল বিষয় হচ্ছে আত্মনিয়ন্ত্রণ। এটাও এক ধরনের দক্ষতা, যার বলে মানুষ কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন। কিন্তু এই আত্মনিয়ন্ত্রণ খুব সহজ জিনিস নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন সেলিগম্যান ২০ লাখ মানুষের ওপর এক জরিপ চালিয়েছেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের ২৪টি সক্ষমতা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল। দেখা গেল, আত্মনিয়ন্ত্রণ এসেছে সবার শেষে।

জীবনে মানুষের নানা ধরনের ব্যর্থতা আছে। স্বপ্ন পূরণের ব্যর্থতা, ভালো চাকরি না পাওয়া প্রভৃতি। তেমনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাটাও এক ধরনের ব্যর্থতা। জরিপে দেখা গেছে, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষদেরও সফলতার হার অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।

কথা হচ্ছে, মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই আবেগপ্রবণ এবং নিয়ন্ত্রণ হারালে আবেগের মাত্রা বেড়ে যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সার্টিফায়েড ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ এলেসা ওয়ার্ড তেমনটাই মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত আবেগ মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিকাশের ভিত্তি ধ্বংস করে দেয়, তাই শিশু বয়স থেকেই মানুষ কী চিন্তা করবে এবং কীভাবে আচরণ করবে, তা শেখানো উচিত।’ শিশুরা যখন অনিয়ন্ত্রিত আবেগ প্রকাশ করবে, তখন তাদের অন্তত ইশারায় বোঝাতে হবে যে এখন থামতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আবার সেই জরিপের প্রসঙ্গে ফেরা যাক। দেখা গেছে, এই জাতীয় মানুষেরা লক্ষ্যে স্থির থাকেন। যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, সমাধান খোঁজার পথ থেকে তাঁরা সরে আসেন না। প্রতিনিয়তই তাঁরা নিজেদের উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যান। এই প্রকৃতির মানুষেরা সাধারণত সমস্যা নিয়ে বসে থাকেন না, সমাধান বের করার চেষ্টা করেন।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক আছে। বলা হয়েছে, মিষ্টিযুক্ত খাবার বেশি খেলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে মানুষের আবেগের বশবর্তী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সে জন্য খাদ্যাভ্যাসে এমন কিছু থাকতে হবে, যা মানুষের শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হবে পূর্ণ শস্য ও মাংস। এতে মানুষ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিক পরিসর পেয়ে থাকে। সে জন্য অফিসে কাজের ফাঁকে ক্ষুধা লাগলে মুখরোচক ক্যান্ডি না খেয়ে অন্য কিছু খাওয়াই শ্রেয়।

আরেকটি বড় ব্যাপার হচ্ছে, নিজেকে ক্ষমা করতে পারা। ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে কুড়ে কুড়ে খায়। এটা মানতে না পারলে মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই আগ্রাসী আচরণ করে। ব্যর্থতার অনুভূতি থাকা প্রয়োজন হলেও তার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া যাবে না। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষেরা জানেন, ব্যর্থতার সিঁড়ি বেয়েই সফলতা আসে। আর তার জন্য কেবল অতীতে বসবাস করলে চলবে না। অতীতে বসবাস করলে হবে কি, অতীতই মানুষের বর্তমান হয়ে যাবে।

‘না’ বলতে শেখাটাও বড় একটি গুণ। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা বলেন, সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বললে মানুষ অত্যধিক পরিশ্রান্ত হয়ে পড়বে। সেখান থেকে অবসাদ জন্ম নিতে পারে। সে কারণে ‘না’ বলাটা অনেকের কাছেই বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জ। ‘না’ বলার সময় হলে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষেরা সাধারণত এমন কথা বলেন না যে ‘মনে হয়, আমি পারব না’ অথবা ‘আমি নিশ্চিত নই’ বরং, তাঁরা অনেক কৌশলে এমন শব্দ এড়িয়ে যান। সে জন্য তাঁরা সব সময় ইতিবাচক থাকেন।

ইতিবাচক চিন্তা করার জন্য মানুষের ভালো ঘুম দরকার। মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়লে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ শোষণ করার ক্ষমতা কমে যায়, আর তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা বা মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ঘুম কম হলে মানুষের চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বেড়ে যায়, তাতে হিতে আরও বিপরীত হয়, কারণ আগেই বলা হয়েছে, চিনিযুক্ত খাবার খেলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন। সে জন্য যত কাজ বা চাপ থাকুক না কেন, রাতে শান্তির ঘুম হওয়াটা খুব জরুরি।

বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন