default-image

করোনা মহামারির কারণে আগামী বছর যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়বে না। কোভিড-১৯ সংকটের কারণে দেশের অর্থায়নের যে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার প্রচেষ্টা হিসেবে চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক আগামী সপ্তাহে সরকারি ব্যয় পর্যালোচনায় এই পদক্ষেপের ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কোটি কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন এই ঘোষণা এলে দেশটির সরকারি শিক্ষক, পুলিশ, বেসামরিক কর্মচারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন আগামী বছর থেকে স্থবির হয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রায় ৫৫ লাখ কর্মী। তবে মহামারির এই সময়ে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্য এনএইচএস কর্মীরা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই বেতন স্থবিরতার অন্তর্ভুক্ত হবে না। ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জনসাধারণের বেতন নির্দিষ্ট করার যেকোনো পদক্ষেপ অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। তবে সুনাক যুক্তি দেখিয়েছেন, মহামারির এই সময়ে বেসরকারি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি স্টাডিজ সেন্টার (সিপিএস) জানিয়েছে, চ্যান্সেলর যদি তিন বছরের সরকারি খাতে বেতন স্থির করে দেন, তবে ২৩ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে পারবেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি না করলে সরকারি কর্মীদের বেতনকাঠামো বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে এই সময়ে সরকারি ঋণের বোঝাও।

বিজ্ঞাপন

সিপিএস যুক্তি দেখিয়েছে, বেসরকারি খাতের কর্মীরা মহামারির কারণে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা রাখতে এই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন ছিল।
আগামী সপ্তাহে ছোট আকারের বাজেট প্রকাশ করবেন সুনাক। তার আগে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনএইচএসকে বেতন স্থিরের এই পদক্ষেপ থেকে বাদ দেওয়া হলেও তিন বছরের মধ্যে ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড বাঁচানো যাবে।

করোনাভাইরাসের এই সময়ে অর্থনীতির সহায়তায় ভারী ব্যয় অব্যাহত রাখায় গত অক্টোবর মাসে দেশটিতে সরকারি ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

অবশ্য এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। তারা বলছে, ইতিমধ্যে মহামারির কারণে সরকারি কর্মচারীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন খাতে তাঁদের জন্য ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0