বিজ্ঞাপন
default-image

এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে আরেক তথ্য। সাবেক এই দম্পতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বিল গেটসের আচরণ অনেক আগেই থেকে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল মেলিন্ডা গেটসের কাছে। ২০১৮ সালে মাইক্রোসফটের দীর্ঘদিনের অর্থ ব্যবস্থাপকের মাইকেল লারসনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনা বিল গেটস যেভাবে সামলেছেন, তা পছন্দ হয়নি মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের। বিল গেটস বিষয়টি গোপনে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে মেলিন্ডা চেয়েছিলেন বাইরের কোনো সংস্থাকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করার। আবার বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফট ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে কর্মরত নারীদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বিল গেটস, যা অনেকেরই নজরে পড়ে।

মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের ভালো সম্পর্ক নিয়েও বিরক্ত ছিলেন মেলিন্ডা। ২০১১ সালের শুরু থেকে এপস্টেইনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় বিল গেটসের। অথচ এর আগেই এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে জঘন্য সব অভিযোগ ওঠে। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জোরপূর্বক যৌনকর্মে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালের ৬ জুলাই নিউ জার্সিতে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারও করা হয় তাঁকে। অথচ সবকিছু জেনেও প্রায়ই এপস্টেইনের পার্টিতে যেতেন গেটস।

default-image

তবে এসবের বিষয়ে গেটসের মুখপাত্র জানান, মাইক্রোসফট ও ফাউন্ডেশনের নারী কর্মীদের সঙ্গে গেটসের যে আচরণের কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। ওই মুখপাত্র আরও জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অবশ্যই কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না। তিনি আরও বলেন, গেটস কখনো এপস্টাইনের সঙ্গে সামাজিকীকরণ করেননি বা তাঁর পার্টিতে অংশ নেননি।

তবে এনবিসিনিউজ ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গেটসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলো তাঁর যে ব্যাপক সুনাম রয়েছে তা ক্ষুণ্ন হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।

গত ২০ বছর ধরে মার্কিন জনগণ যেন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছিলেন। তবে সেই জায়গায় গেটস আরও বেশি কর্তৃত্ব অর্জন করতে পেরেছিলেন। বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থ ঢেলেছেন। জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সম্মানে ২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে মেলিন্ডা গেটস, ইউ টু রকার বোনো ও বিল গেটসকে। বিশ্বব্যাপী, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি ও চরম দারিদ্র্য হ্রাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, শিক্ষাগত সুযোগগুলো প্রসারিত করা এবং তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বা প্রবেশের সুযোগ প্রদান করতে ২০০০ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক টিকা কর্মসূচির সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে বিল গেটসের জন্য। মিডিয়ায় উপস্থিতির মাধ্যমে, তিনি বিশ্বব্যাপী এই সহযোগিতার জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছেন। এখন কি তাঁর এত এত অর্জন মলিন হবে ব্যক্তিগত বিষয়ে।

বিশ্ববাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন