default-image

করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য খাতের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। আবার বন্যার দুর্যোগেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের (সিএসআর) আওতায় এসব খাতে ব্যাংকের ব্যয় বেড়েছে গত ছয় মাসে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই খাতে ব্যাংকগুলোর অনুদান কমে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলো সিএসআর ব্যয় বাড়িয়েছে। কারণ, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রীর স্বল্পতা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। আবার গত ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, সিএসআর খাতে ব্যয়ের ৬০ শতাংশই স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার উপকরণ ও সুরক্ষাসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের যে সীমা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। ফলে ব্যাংকগুলো এ খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা বছর শেষে দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি বন্যার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ৫১৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪০৮ কোটি টাকা, এর মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছিল ১২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে ব্যয় কমে হয় ৬০ কোটি টাকা।

এদিকে গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে তা বেড়ে হয় ৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২ কোটি টাকা ব্যয় করে এ খাতে। আর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ডাচ্–বাংলা ব্যাংক আট কোটি টাকা করে খরচ করেছে স্বাস্থ্য খাতে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যাংকগুলো ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করে, যা গত বছরের শেষ ৬ মাসে ছিল ১২৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ভাগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে ইসলামী ব্যাংক ৩২ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১১ কোটি টাকা এবং এক্সিম ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১০ কোটি টাকা করে ব্যয় করে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এই খাতে ৯ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক ৭ কোটি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ৬ কোটি টাকা ব্যয় করে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, ‘আমরা যেকোনো সমস্যায় সরকারের পাশে আছি। করোনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এসব অনুদান দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে গত ছয় মাসে সংস্কৃতি খাতে ব্যাংকগুলো ৮১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সিএসআরের মূল উদ্দেশ্য অবহেলিত জনগণের জন্য অর্থ ব্যয় করা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানও এসব টাকা নিচ্ছে। এসব অপচয় বন্ধ করা উচিত। ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য পড়ুন 0