default-image

পুনর্নির্বাচনে জেতার জন্য যে কতশত উল্টোপাল্টা বকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার বলে গেছেন, জো বাইডেনকে নির্বাচিত করলে পুঁজিবাজার ধসে পড়বে। গত আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ নিয়ে ছয়বার টুইট করেছেন ট্রাম্প। প্রতিটি টুইটেই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন এই বলে যে জো বাইডেন এলেই নামবে ধস।

গত ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের এক টুইটের ভাষা তো ছিল রীতিমতো আগ্রাসী। ওই দিন ২৯০০০ পয়েন্টে পৌঁছায় ওয়ালস্ট্রিটের প্রধান সূচক ডাও জোন্স। সেই খুশি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আপনারা খুবই ভাগ্যবান যে আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেয়েছেন। জো হাইডেন এলে এটি ধসে পড়বে।’ মাঝেমধ্যেই জো বাইডেনকে ব্যঙ্গ করে ‘জো হাইডেন’ বলেন ট্রাম্প। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে বাস্তবে হয়েছে ঠিক তার উল্টো। নির্বাচন-পরবর্তী মন্দার কোনো উদ্ভব এখনো হয়নি; বরং ফাইজার ও মর্ডানা করোনার টিকা নিয়ে আসছে—এমন আশায় তর তর করে বাড়ছে সূচক। শুধু ডাও জোন্স সূচক নয়, অন্যগুলো অবস্থাও বেশ ইতিবাচক। নির্বাচনের পর এসএন্ডপি ৫০০ সূচকটি ১৯৩২ সালের পর এর সবচেয়ে সেরা সপ্তাহ পার করে। গত সোমবার সূচক কিছুটা কমলেও নভেম্বরজুড়ে ডাও জোন্স সূচক বেড়েছে ১২ শতাংশ, যা কিনা ১৯৮৭ সালের পর এর সবচেয়ে ইতিবাচক মাস। ইতিবাচক ধারায় রয়েছে নাসডাকও। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাইডেন পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে না—এমন কোনো চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

যে কারণে ঊর্ধ্বমুখী ওয়ালস্ট্রিট

ওয়ালস্ট্রিট ইতিবাচক ধারায় আসার একটি অন্যতম কারণ ট্রাম্পের কর কমানো ও বিকেন্দ্রীকরণ সিদ্ধান্ত। আবার চীনের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ এবং শুল্কের প্রতি ভালোবাসা পুঁজিবাজারের ওপর স্পষ্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, বাইডেন চাইছেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা জয় করতে। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন, চরম নীতি গ্রহণ করবেন না, যা বাজার ধসিয়ে দেবে। সোমবার তিনি তাঁর অর্থনৈতিক মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেছেন। সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান থাকছেন নেতৃত্বে। জ্যানেট ইয়েলেনের প্রতি অনেক আস্থা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এ ছাড়া নভেম্বরে ওয়ালস্ট্রিটের শক্তিশালী উত্থানের আরেকটি কারণ হলো ভোট গণনায় সময় নিলেও নির্বাচন নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার বিশাল মেঘ কেটে গেছে। একটি সাংবিধানিক সংকট ও ক্ষমতা হস্তান্তরে কী হবে, এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কত দিন এমন উত্থানে থাকবে পুঁজিবাজার। কারণ, শেয়ারবাজার কখনোই কেবল উত্থানে থাকতে পারে না। ব্যাংক অব আমেরিকা মনে করছে, এ বছরটা এমনই যাবে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের প্রথমটাও টিকার আশা, প্রয়োগ—এসব ঘিরে ইতিবাচক থাকবে।

মন্তব্য করুন