বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চার বছর ধরে রাজধানীর ধানমন্ডির ‘ইয়াম্মী ইয়াম্মী’ রেস্তোরাঁয় বিক্রয় সহকারী হিসেবে কাজ করছেন সরকারি বাঙলা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকালের শিফটে কাজ করে দুপুরে ক্লাসে যাই, ক্লাস শেষ করে আবার কাজে ফিরি। পড়াশোনার পাশাপাশি এভাবেই চলছে চাকরি। যা আয় হয়, তা দিয়ে পকেট খরচ, বাসাভাড়া ও পড়াশোনার খরচ ভালোভাবে চলে যায়।

স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকেই চাকরি করছেন জাহিদুল, এখন পড়ছেন শেষ বর্ষে। পড়াশোনার খরচের জন্য বাড়ি থেকে এক টাকাও নেননি, বরং ঈদে বোনাস পেয়ে মা-বাবার জন্য নতুন পোশাক নিয়ে বাড়িতে ফিরতেন। জাহিদুল বলেন, এ চাকরি করার কারণে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কথা বলার জড়তা কেটে গেছে এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেয়েছি।

আন্তর্জাতিক খাবার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কেএফসি ও পিৎজা হাট। প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ক্রেতাদের সেবা দিয়ে আসছে। পিৎজা হাট ও কেএফসি ফ্র্যাঞ্চাইজি ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ম্যানেজার মোমেন উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ কর্মী বয়সে তরুণ। ঢাকা, বগুড়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ কেএফসির মোট ২৪টি শাখা আছে। আর পিৎজা হাটের ঢাকা, ঢাকার বাইরেসহ মোট ১৬টি শাখা আছে। সেবাকর্মী হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নবীনদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এইচএসসি পাসসহ স্নাতকে পড়েন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন বেশি। তাঁদের নিয়োগের পর প্রাথমিকভাবে এক মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে আরও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমাদের এখানে খণ্ডকালীন ও ফুলটাইম চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। খণ্ডকালীন করলে সপ্তাহে চার দিন পাঁচ ঘণ্টা করে এবং ফুলটাইম করলে দিনে আট ঘণ্টা।’

রাজধানীর রেস্তোরাঁপাড়া বলে খ্যাত ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোড। এ রোডের রূপায়ণ জেড আর প্লাজায় রয়েছে সাতটি নজরকাড়া আধুনিক রেস্তোরাঁ-ক্যাফে। এর মধ্যে একটি ‘লিটল এশিয়া’। এ রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখানে কর্মরত সব কর্মীই শিক্ষার্থী। যেহেতু তাঁরা এখনো পড়ছেন, তাই তাঁদের ক্লাস বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। শিফটে কাজ করার সুবিধার কারণে এখন অনেক শিক্ষার্থীই পড়ালেখার পাশাপাশি এ চাকরিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে মূলত দেখা হয় প্রার্থী শুদ্ধভাবে বাংলায় কথা বলতে পারেন কি না। আঞ্চলিকতা পরিহার করে বাংলায় কথা বলতে পারা এবং ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারলেই নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রার্থীর আচার-ব্যবহারের বিষয়টিও খেয়াল করা হয়।

সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. সাইদুল ইসলাম ইতালিয়ান পিৎজা হাউস, ফ্রাইট হার্ট, কিংস ফিশ, ইন্ডিয়ান স্পাইসিসহ পাঁচটি রেস্তোরাঁয় বিক্রয় সহকারী হিসেবে চাকরি করেছেন। বর্তমানে রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘পিৎজা হ্যাভেন’ নামে নিজেই একটি রেস্তোরাঁ খুলেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি চাকরির জন্য বসে না থেকে স্নাতকের প্রথম বর্ষ থেকে খণ্ডকালীন চাকরি শুরু করি। রেস্তোরাঁয় চাকরির শুরুতে বেতন একটু কম। কিন্তু আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। নিজের হাতখরচ ও পড়াশোনার জন্য মা-বাবার কাছে হাত পাততে হয় না। কয়েকটি রেস্তোরাঁয় চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন নিজের রেস্তোরাঁ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় খণ্ডকালীন চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে চাকরিজীবনে ভালো করছেন অনেকে। তেমনি একজন মো. মনিরুল ইসলাম। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করছেন তিনি। স্নাতকে থাকা অবস্থায় গুলশানে কুপার’স বেকারিতে বিক্রয় সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি করার কারণে বর্তমান চাকরিতে সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান মনিরুল। তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই চাকরি করার কারণে নানা মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। পণ্যের বাজারজাতকরণ নিয়ে ভালো ধারণাও তৈরি হয়েছিল। ফলে স্নাতক শেষে যখন পূর্ণকালীন চাকরিতে প্রবেশ করলাম, তখন সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের চেয়ে আমার অভিজ্ঞতাকে ভালো গুরুত্ব দিতে থাকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যাঁরা মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের জন্য এসব খণ্ডকালীন চাকরি হাতে-কলমে কাজ শেখার মতো।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মিষ্টান্ন খাবারের চেইন শপ ‘টেস্টি ট্রিট’-এর শোরুম। এসব শোরুমে কর্মরতদের বেশির ভাগই তরুণ-তরুণী। এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় ১০০টির বেশি টেস্টি ট্রিটের শোরুম রয়েছে। এখানে চাকরির আবেদনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি পাস। তাই অনেক শিক্ষার্থীই আবেদন করেন। অনেকে আবার ইয়ারলি পরীক্ষা শেষে যে অবসর সময় পান, তা কাজে লাগিয়ে চাকরি করেন। আমাদের এখানে ডিউটি টাইম আট ঘণ্টা।’

ক্যাফে, রেস্তোরাঁর চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাধারণত প্রতিষ্ঠানগুলোর ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া অনেক রেস্তোরাঁর সামনেই থাকে সিভি বক্স। বক্সে সিভি দিয়ে রাখলে সুবিধামতো সময়ে রেস্তোরাঁগুলো ডেকে নেয় আবেদনকারীদের। কয়েকটি রেস্তোরাঁর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত এইচএসসি চাওয়া হয়। রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবার সম্পর্কে ধারণা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রার্থীকে স্মার্ট, চটপটে ও গ্রাহকদের সঙ্গে মেশার দক্ষতা থাকতে হয়। প্রতিষ্ঠানভেদে বেতন ১০-১৫ হাজার। সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন।

চাকরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন