বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুমন হায়দার বলেন, ‘গত ১০ বছরে কারিগরি শিক্ষার হার ২ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। ৯ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকেরা দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। আমাদের কয়েকজন সহকর্মী টাকার অভাবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করাতে পেরে মারা গেছেন। শিক্ষকেরা পরিবার নিয়ে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’
সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিবসহ সবাই চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সবাই চাইছেন, তাহলে কোন বেড়াজালে পড়ে শিক্ষকেরা বেতন পাবেন না।’

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছাওরা পারভীন বলেন, ‘প্রকল্প শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের কারণেই আমরা এখানে কর্মরত আছি। কিন্তু এখন আমরা কি পাঠদান করব, নাকি বেতনের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব?’
শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাতে আসা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদের ছেলে মোস্তফা কামাল বলেন, চাকরি রাজস্ব খাতে না যাওয়ার পেছনে কিছু কালো চক্র কাজ করছে। তারা চাহিদামতো সুবিধা পাচ্ছে না বলে রাজস্ব খাতে যাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কারিগরি শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর আমিনুল ইসলাম, বীর বিক্রম শাহ আলী আকন্দের ছেলে ও সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর মেহেদি হাসান, শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর রেজাউল করিমসহ দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকেরা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের কারিগরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে স্টেপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ছয় বছর মেয়াদি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের জুনে। এরপর পুনরায় এ প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর বাড়ানো হয়। যৌথভাবে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্বব্যাংক ও কানাডা। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো এ প্রকল্পের জন্য মোট ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থসামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের নিকট কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।

এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটের মানোন্নয়ন ও শিক্ষকস্বল্পতা দূর করার জন্য দুই ধাপে ১ হাজার ১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৩০ জুন এক পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। স্টেপ প্রকল্পে কর্মরত ৭৮৬ (১ হাজার ১৫ জনের মধ্যে বাকিরা কর্মরত ছিলেন না) শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহাল রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় ওই পরিপত্রে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের থোক বরাদ্দ থেকে এক বছরের বেতন-ভাতাদি দেওয়া হয় এই ৭৮৬ শিক্ষককে, যা দুই কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পরে এই শিক্ষকদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় চিঠি–চালাচালি হলেও এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

খবর থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন