করোনা-পরবর্তী চাকরির বাজারে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে

করোনাকালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাজের ক্ষেত্র ও চাহিদা বেড়েছে
করোনাকালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাজের ক্ষেত্র ও চাহিদা বেড়েছেছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত বছরের শেষ দিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। এ মহামারি পরে দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন বেড়েছে সংক্রমণ আর মৃত্যু। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের ৮ মাস পেরিয়ে গেছে। মৃত্যু ৯ লাখ ছুঁই ছুঁই। কোভিডের অর্থনৈতিক প্রভাবের তীব্রতা বোঝা যায় বিশ্বে বিভিন্ন স্থানে বিনা মূল্যের খাবার নেওয়ার লম্বা সারি দেখলে। করোনার কারণে অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙে পড়ে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও।

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বিশ্বে কাজের জগতেও পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে। আবার কিছু কিছু খাত অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালীও হয়েছে। আবার কিছু খাত বিপাকে পড়েছে।

কর্মসংস্থানবিষয়ক ওয়েবসাইট সিভি-লাইব্রেরির সর্বশেষ চাকরির বাজারের প্রতিবেদনেও এর প্রমাণ মেলে। বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারের বর্ণনা অনুসারে, যুক্তরাজ্যে চাকরির শূন্য পদের সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এক প্রান্তিক ৪ মাস) কমেছে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় যেসব চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, তাতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা দিনকে দিন কঠিন হচ্ছে। এর সত্যতা মেলে চাকরি অনুপাতে দরখাস্তের দিকে তাকালে। চাকরির বিজ্ঞাপন অনুপাতে ওই দেশে আবেদনের গড় হার ৮৮ শতাংশ বেড়েছে।

চাকরির শূন্য পদ দেখে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ যেমন বাড়ছে, আবার সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজারও। ওপরের চিত্রে একটি পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে মাত্র। বাস্তব চিত্র হয়তো আরও কঠিন। একটি চাকরির জন্য প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই বাড়ছে। কোনো কোনো খাতে প্রকৃতপক্ষে কর্মীদের প্রয়োজনের চেয়ে আবেদন পড়ছে বেশি। করোনাকালে ইংল্যান্ডের চাকরি বাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিবিসি একটি প্রতিবেদন করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি খাতের চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ বেশ ভালো। আবার কোনো কোনো পেশার চাকরির বাজার সংকুচিত হয়েছে, চাকরি হারিয়েছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা-পরবর্তী বিশ্বে চাকরিতে যারা এগিয়ে

default-image

১. আইটি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি

ই-কমার্স থেকে শুরু করে যেকোনো উৎপাদন কারখানা, সেটি পণ্য বা অন্য কোনো উৎপাদন কারখানা হোক, ডিজিটাল দক্ষতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর তাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে করোনাকালে। এসব পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও আসছে। চাহিদাও বাড়ছে।

চাকরির বাজার বিশ্লেষণকারী যুক্তরাজ্যর একটি প্রতিষ্ঠান রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশন (আরইসি)। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নেইল কারবেরি বলেন, এটি উত্সাহজনক ব্যাপার যে আইটি-সংক্রান্ত পেশার প্রতি কারখানা বা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বেশি। পরিবর্তিত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেউ (ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান) এটা মানিয়ে নিতে না পারলে বিপাকে পড়বেন। এ খাতের কর্মসংস্থান বেড়েছে।

২. পণ্য সরবরাহকারী

এ বছরের মার্চে লকডাউন শুরু হয় ইংল্যান্ডে। এ সময় প্রায় সবাই অনলাইনে বেশি বেশি কেনাকাটা শুরু করেন। আর এ কারণে অনলাইনের কেনাকাটার শপগুলো বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বেড়েছে। পণ্যর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কর্মসংস্থানও।
অনলাইন জায়ান্ট আমাজনে এ সময় ১৫ হাজার পূর্ণ এবং খণ্ডকালীন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এঁদের বেশির ভাগই অনলাইনে পণ্যর অর্ডার নেওয়া, ডেলিভারি ম্যান ও চাহিদামতো পণ্য সরবরাহকারী।

ভিরেটি স্টিফেনস টিম জিবি নামের একটি জুডো স্কোয়াডের প্রশিক্ষক। করোনাকালে প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, কেউ তা শিখতে আসত না। কিন্তু এরই মধ্য তিনি একটি কাজ জুটিয়ে নেন আমাজনে। তিনি এখন লিসেস্টারশায়ারের কোলভিলে আমাজনে অর্ডারের পণ্য সরবরাহ শাখায় কাজ করেন।

ভিরেটি স্টিফেনস বলেন, আমি লিসেস্টারশায়ার এবং নটিংহ্যামশায়ারের স্কুলগুলোতে জুডো-কারাতে শেখাতাম। প্রতি সপ্তাহে ২৫০ শিশুকে জুডো শেখাতাম। লকডাউনে আক্ষরিক অর্থে আমার পুরো শিডিউলটি বদলে গেল। ২৪ ঘণ্টা আমি বসেই থাকতাম।
ইতিমধ্যে, লাইফস্টাইল পণ্য সরবরাহকারী সংস্থা হার্মিসে সাড়ে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইউরোপের অন্যতম এই সংস্থাটিতে এরই মধ্যে পূর্ণকালীন ১০ হাজার ৫০০ কর্মী প্রধান অফিসে কাজ করছেন। আর ৯ হাজার কর্মী গ্রাহকের চাহিদামতো ঘরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। এরা সবাই মার্চে লকডাউনের পর নিয়োগ পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩. সুপার মার্কেট ও খুচরা বিক্রেতা

খুচরা পণ্যর বাজারবিশ্লেষক রিটেল ইকোনমিকসের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড লিম বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর লকডাউনে ইংল্যান্ডের পানশালা এবং রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে সবাই ঘরবন্দী হয়ে যান। আর তাই ঘরে বসে অর্ডার দেওয়া খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। মানুষ ঘরে বসেই খাদ্য ও খাদ্যপণ্যের অর্ডার দেন। মুদিখানা দোকানের সামগ্রীর চাহিদা বাড়তে থাকে। বেড়ে যায় এ-সংক্রান্ত পণ্য সরবরাহের লোকের। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় সুপার মার্কেটগুলোতে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ হয়েছেন। অনেক অস্থায়ী এবং পূর্ণকালীন কর্মীও আছেন এঁদের মধ্য।

রিচার্ড লিম বলেন, খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে তিন ধরনের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টোরের সংখ্যা বেড়ে লোকবল বেড়েছে, অনলাইন অর্ডারের কারণে পণ্যের তাকগুলো আবার ভরতে কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে এবং গ্রাহকদের দ্বারে খাদ্য পৌঁছে দিতেও লোকসংখ্যা বেড়েছে।

৪. লরিচালক

default-image

রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশনের (আরইসি) সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বড় বড় লরির চালকের চাহিদা বেড়েছে। এ কাজে করোনার আগে এত লোকের প্রয়োজন ছিল না। আর যাঁরা যানবাহন চালাতে পারেন এবং মেরামত করতে পারেন, তাঁদের খুঁজেছেন নিয়োগকর্তারা।

এরা মানে চালকেরা গুদাম থেকে পণ্য স্টোরে বা বাজার থেকে স্টোরে দূর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজটি করেছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৫. পরিচ্ছন্নতাকর্মী

default-image

‘ফোনের বাজনা আর থামে না। এ সময় আমরা একটি ব্যাপার লক্ষ করেছি যে মানুষ ফোন করে আমাদের বুকিং নিচ্ছেন। আমাদের গ্রাহকের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়তে থাকল। আমরা বুকিং দিয়ে কুলাতে পারছিলাম না।’ কথাগুলো বলছিলেন ইংল্যান্ডের একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সংস্থার প্রধান লিয়াম পারকিনসন। করোনায় ঘরে থাকার সময় বেড়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চাহিদা। আর তাই ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে লিয়াম পারকিনসনদের মতো অনেক সংস্থার।

যুক্তরাজ্যে ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগও করেছেন এ খাতে। চাকরি নিয়োগের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, করোনাকালে ১০ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরি পেয়েছেন। এ খাতের শূন্য পদগুলোও পূরণ হয়েছে দ্রুত।

ব্রিটিশ ক্লিনিং কাউন্সিল জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাহিদা বেড়েছে। বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল খাতে জনগণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখতে চায়। তাই এ খাত অবদান রেখেছে অর্থনীতিতেও।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওপরের চিত্র হয়তো যুক্তরাজ্যর। কিন্তু পুরো বিশ্বের অবস্থা প্রায়ই একই রকম। করোনার কারণে অনেকের কপাল খুললেও পুড়েছে অনেকের। যেমন:

১. স্ট্রিট শপ

লন্ডনের সড়কের পাশে পোশাকসহ নানা পণ্যের বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট দোকান দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ব্যবসা বা পেশার লোক কাজ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলো সড়কের পাশের দোকানের কর্মীরা। সংবাদও হয়েছে স্ট্রিট শপ নিয়ে। স্ট্রিট শপ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বুটস, বারবেরি, ক্যাথ কিডস্টন, ক্লার্কস, ডিকসন কারফোন, হ্যারোডস, জন লুইস পার্টনারশিপ, মনসুন, ওয়েসিস, কুইজ, রিভার আইল্যান্ড, টিএম লেউইন, টপশপ, ভেরি, উইকস এবং জারা বন্ধ। ফলে কাজ নেই কর্মীদের। চাকরিও হারিয়েছেন অনেকে। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ চাকরি না হারালেও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সম্প্রতি টেড বেকার এবং মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার বলেছে, তাদের কয়েক শ কর্মী ঝুঁকির মধ্য রয়েছেন। এ ব্যাপারে রিটেইল ইকোনমিকসের রিচার্ড লিম বলেছেন, খুচরা পণ্যবিক্রেতা ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোভিড সময়ে খাদ্যর বিক্রি-বাট্টা বেড়েছে। তখন খাদ্যপণ্য নয়, এমন পণ্যের বিক্রি কমেছে। তাঁরা সংকটে পড়েছেন।

২. পাব ও রেস্তোরাঁ

default-image

আরইসির তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে অনেক পাবে লোক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি আগেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এর আগেই লকডাউনে চলে গেছে যুক্তরাজ্য। এখন সব পাব বন্ধ।
পাবের ব্যবস্থাপকদের লন্ডনে পাবলিকান বলা হয়। এমন একজন পাবলিকান বিবিসিকে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, করোনাভাইরাস একটি বড় ইস্যু। লন্ডনসহ বড় বড় শহরের অনেক পাব বন্ধ। পাবগুলোতে আর কেউ লোক নিচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আর লোক নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়েও এ খাতে ব্যবসায় করা খুব কঠিন ব্যাপার। এ পেশার মানুষদের জন্য একটি অশনিসংকেত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম

বিভিন্ন ট্রেড শো, প্রদর্শনী, কনফারেন্স, বড় সেমিনার আয়োজনে সাজানো গোছানোর কাজটি করে ইভেন্ট ফার্মগুলো। করোনাভাইরাসের কারণে সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদের আর কাজে লাগেনি। সভা-সেমিনারও মানুষ সেরেছে জুম, গুগল মিটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায়। ফার্মগুলোর অস্তিত্বই এখন সংকটে। আর কর্মীরাও ঝুঁকির মধ্য। অনেকে কাজও হারিয়েছেন।

ডিসেম্বরের পর ইভেন্ট ফার্মগুলোর আর ডাক পড়েনি। ইভেন্টস ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ১০০টি (৭০ শতাংশ) ট্রেড শো, প্রদর্শনী বাতিল হয়েছে। ৩০ হাজার কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত, এঁদের অধিকাংশই ঝুঁকির মধ্য আছেন। চাকরি হারাতে বসেছেন এঁদের এক-চতুর্থাংশ লোক।
সাউদাম্পটনের বোট শো একটি বড় ইভেন্ট। অনেক মানুষ এই বোট শো দেখাতে জমায়েত হন। এই সেপ্টেম্বরেই এটি আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু বাতিল হয়েছে। আয়োজকেরা জানেন না কবে হবে এই বোট শো। এভাবে একের পর এক শো বাতিল হলে এ পেশার লোকেরা কাজ হারাতেই থাকেবেন।

৪. বিউটিশিয়ান

default-image

১ আগস্ট থেকে বিউটি সেলুনগুলো খুলেছে। কিন্তু ব্রিটিশ বিউটি কাউন্সিল বলছে, লকডাউনের কারণে এ খাতের কর্মীদের টিকে থাকার লড়াই করতে হয়েছে। দুই লাখ কর্মী বিউটি সেলুনগুলোতে কাজ করেন।

ব্রিটিশ বিউটি কাউন্সিলের প্রধান মিলিই ক্যান্ডেল বিবিসিকে বলেন, লকডাউন শুরুর পর অনুদান এবং লোনের জন্য আবেদন করেছি। সময়টি এ শিল্পের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ শিল্পের এখন ১১ শতাংশ কর্মী অতিরিক্ত হয়ে গেছেন। কিছু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজ হারিয়েছেন বেশি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৫. বিমান সংস্থা

default-image

করোনা মহামারির সময় ভ্রমণশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। এপ্রিলে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তার ৪২ হাজারের মধ্যে ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। এতে কেবিন ক্রু এবং পাইলট উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বিমান সংস্থা ইজিজেট থেকে ১ হাজার ৩০০ কেবিন ক্রু এবং ৭২৭ পাইলটের চাকরি গেছে। আর ভার্জিন আটলান্টিক ছাঁটাই করেছে সাড়ে ৩ হাজার কর্মীকে। এসবই করোনার কারণে হয়েছে।

তবে চাকরি যায়নি কিন্তু বেতন কমেছে এমন ঘটনাও ঘটেছে করোনাকালে। বিমান সংস্থা রায়ান এয়ার কর্মীদের ছাঁটাই না করে বেতন কেটেছে।

বিমান খাতের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা পরিষ্কার নয়। ব্রিটিশ বিমান সংস্থাগুলোর ২০১৯ সালের মতো অবস্থায় ফিরে যেতে কয়েক বছর লাগবে বলে মনে করেছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন