বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবেদনের যোগ্যতা

বিভিন্ন এয়ারলাইনস কোম্পানির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেবিন ক্রু পদে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি বা ‘এ’ লেভেল। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান স্নাতক পাস প্রার্থী চায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। উচ্চতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওজনের বেশি হলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবে। চোখের দৃষ্টি ৬ বাই ৬, এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ১৮-২৪ এবং স্নাতক পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ২৬ বছর। প্রার্থীদের সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক। আগ্রহীদের শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিখতে এবং বলতে পারতে হবে।


বাছাই প্রক্রিয়া

একেক এয়ারলাইনসের নিয়োগপ্রক্রিয়া একেক রকম। বেসরকারি এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠান নভোএয়ার থেকে জানানো হয়, সাধারণত তিন ধাপে কেবিন ক্রু নিয়োগ দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস কেমন তা দেখা হয়। যেকোনো সময় কাজ করার চ্যালেঞ্জ প্রার্থী নিতে পারবে কি না সে বিষয়টিও যাচাই
করা হয়।

কাজের সময়

অন্যান্য চাকরির মতো কেবিন ক্রুদের কাজের নির্দিষ্ট সময় নেই। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম অনুযায়ী, কেবিন ক্রুরা বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ ঘণ্টা ফ্লাইট করতে পারেন। এ হিসাবে মাসে ১২৫ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা ফ্লাইট করার সুযোগ পান। রোস্টার অনুযায়ী কাজের সময় ভাগ করে দেওয়া হয়।


দায়িত্ব-কর্তব্য

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু জে পি আবির বলেন, অনেকে মনে করে, কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব শুধু খাবার বিতরণ করা। কিন্তু এটাই শুধু কাজ নয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেবিন ক্রুদের ডিউটির পুরোটা সময় আকাশে থাকতে হয়। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব একজন যোদ্ধার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষদের নিয়ে ফ্লাইট করতে হয়। তাদের অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়ে। ফ্লাইটের পুরোটা সময় তাদের আপন হয়ে থাকতে পারাটা অনেক বড় যোগ্যতার পরিচয়। কেবিন ক্রুদের ভিন দেশেও ভ্রমণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও তাঁদের কাঁধে বর্তায়।

সুযোগ-সুবিধা

এ পেশায় কাজের সময় যেমন নির্দিষ্ট নয়, তেমনি বেতনও নির্দিষ্ট হয় না। যে যত বেশি আকাশে থাকবে, তার তত আয়। মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত মাসিক ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতনে কেবিন ক্রুদের চাকরিজীবন শুরু হয়। বেতন ছাড়াও ফ্লাইটে থাকাকালীন রয়েছে ঘণ্টা হিসাবে বাড়তি ফ্লাইং ভাতা। প্রতি ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইং ভাতা দেওয়া হয়। এ থেকে বেতনের বাইরে মোটা অঙ্কের টাকা আসে। এ ছাড়া ট্রান্সপোর্ট, লন্ড্রি ও খাবার এয়ারলাইনস থেকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। বিদেশে থাকাকালীন হোটেল ভাড়া ও খাবার খরচ এয়ারলাইনস দিয়ে থাকে। একজন কেবিন ক্রু বেতন ও ফ্লাইং ভাতা মিলে মাসে ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। বিদেশি এয়ারলাইনসে ফ্লাইং ভাতা বেশি থাকায় সেখানে আয়ও বেশি হয়। কেবিন ক্রু হিসেবে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতনও বাড়তে থাকে।


প্রশিক্ষণ

এয়ারলাইনসে কেবিন ক্রু হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ প্রার্থীকে কয়েক ধাপে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে এভিয়েশন যোগাযোগের ভাষা, জরুরি উড়োজাহাজ অবতরণ, গ্রাউন্ড ফ্লাইং প্রশিক্ষণ, ফায়ার ট্রেনিং, অ্যানাউন্সমেন্ট ট্রেনিং ও ডিপারচার ট্রেনিং। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কারণ, উড়োজাহাজে হৃদ্​রোগের রোগী কিংবা মায়েদের বাচ্চা প্রসবের মতো পরিস্থিতিও সামাল দিতে হতে পারে কেবিন ক্রুদের।

প্রস্তুতি

কয়েকজন কেবিন ক্রুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগ্রহী নবীন প্রার্থীরা ঘরে বসেই প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে পারেন। এ পদের প্রাথমিক বাছাইয়ে প্রার্থীকে উড়োজাহাজ সম্পর্কে বা কেবিন ক্রুর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জিজ্ঞেস করা হয় না। তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ পেশা সম্পর্কে প্রার্থীর শুধু প্রাথমিক ধারণা জানতে চাওয়া হয়। ঘরে বসে গুগল করেই এ প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ‘ইভ স্টাইল অব কেবিন ক্রু’ লিখে দিলে গুগলে অনেক আর্টিকেল পাওয়া যায়। সেগুলো পড়লেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রার্থী স্নাতকে যে বিষয়ে পড়াশোনা করেন, সে বিষয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হয় এবং কিছু সাধারণ জ্ঞান জিজ্ঞেস করা হয়, যেগুলোর উত্তর নিয়মিত পত্রিকা পড়লে পাওয়া সম্ভব।

খবর থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন