default-image

করোনাকালে লকডাউনের সময়ও অফিস চলেছে। মানুষ কাজ করেছেন বাসায় বসে। নতুন স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন মানুষ। হোম অফিস থেকে অফিসগামী হয়েছেন কর্মজীবীরা। কিন্তু এর মধ্যেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের স্থায়ীভাবে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি কোম্পানি মাইক্রোসফট এ ঘোষণা দিতে যাচ্ছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই কর্মীদের স্থায়ীভাবে বাড়িতে কাজের অনুমতি দিচ্ছে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপির খবরে এমনটা বলা হয়েছে। তবে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো কিছু ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসছে দিনে কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে কাজের অনুমতি দিচ্ছে মাইক্রোসফট। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকার কারণে মাইক্রোসফটের কর্মীরা এখনো বাড়ি থেকে কাজ করছেন। সফটওয়্যার কোম্পানিটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের অফিস আর খুলছে না। কর্মীরা বাড়ি থেকেই কাজ করবেন। ভবিষ্যতে কর্মীরা যদি বাড়ি থেকে স্থায়ীভাবে কাজ করতে চান, তাহলে তাঁদের সে সুযোগ দেবে মাইক্রোসফট। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকের অনুমতি নিয়ে বাড়িতে কাজ করবেন কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

মাইক্রোসফটের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ক্যাথলিন হোগান বলেছেন, ‘করোনার কারণে বেশির ভাগ কর্মী এখন বাড়ি থেকেই কাজ করছেন। টেকনিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। জীবনের দাম অনেক বেশি। করোনা মহামারিতে নতুনভাবে বাঁচার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হলো, আমরা ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ চালিয়ে নেব।’
ক্যাথলিন বলেন, ‘কর্মীরা কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান হলে এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে, সেটাই সংস্থার লাভ। তার জন্য জোরজবরদস্তি করার দরকার নেই। আমাদের জীবনযাপন নিশ্চিত করে স্বতন্ত্র কাজের ধারায় আমরা থাকতে চাই। আবার কোম্পানির ব্যবসাও বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চাই।’
পরে এক পাবলিক ব্লগ পোস্টে ক্যাথলিন হোগান বলেছেন, ‘আমরা কর্মচারীদের যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, কর্মস্থলে কর্মচারীদের একসঙ্গে থাকার মূল্যও আলাদা রয়েছে।’
হোম অফিস করলে কর্মীরা আনুষঙ্গিক কিছু খরচও পাবেন। এ বছরের জুন পর্যন্ত মাইক্রোসফটের কর্মী আছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই কর্মী আছেন ৯৬ হাজার।

সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলেছে। বলা হচ্ছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। এরই মধ্যে ইউরোপে সংক্রমণ বাড়ছে। আর ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত এ ভাইরাস থেকে কার্যত মুক্তির আশা নেই বলেই ধরে নিয়েছে মানুষ। ভ্যাকসিন কবে বিশ্বের বাজারে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পথেই হাঁটছে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে গুগল ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ি থেকেই কাজ করার জন্য কর্মীদের অনুমতি দিয়েছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। কোম্পানিটি তাদের কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা দিয়েছে। ফেসবুকও একই রকম ঘোষণা করেছে। ফেসবুক জানিয়েছে, শুধু ওয়ার্ক ফ্রম হোম নয়, বাড়িতে অফিসের পরিকাঠামো তৈরির জন্য এক হাজার মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্যও কর্মীদের দেওয়া হবে। অন্যদিকে মার্কিন আবাসন প্রতিষ্ঠান জিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান রিচ বার্টন টুইট করে জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়িতে কাজ করার সুবিধা নিতে পারবেন কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0