default-image

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত স্কিলড সাবক্লাস ৪৯১ ভিসায় পরিবর্তন এসেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এ নতুন আইন। ফলে এ ভিসায় আবেদন করার শর্ত হিসেবে ১ বছরের পরিবর্তে ২ বছরের পুরোনো ব্যবসা ক্রয় করতে হবে এবং ব্যবসার সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য হতে হবে ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। কিন্তু বর্তমান নিয়মে ১ লাখ ডলারের কম দিয়ে ব্যবসা ক্রয় করে পরে ভিসা আবেদনের আগে মোট বিনিয়োগ ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দেখা হয়। এ ছাড়া, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার সরাসরি চুক্তি লাগবে, অর্থাৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা ক্রয় করলে মূল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থাকতে হবে। তা ছাড়া, পেট্রলপাম্প এবং ঘরে অফিস যেমন কুরিয়ার সার্ভিস, পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার ব্যবসাকে এ ভিসার জন্য বিবেচনা করা হবে না। তবে ২০২১ সালের ১ এপ্রিলের পূর্বে যেসব ব্যবসা কেনা হয়ে থাকবে, সেসবের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মই চালু থাকবে।

১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূল্যের ব্যবসার পূর্ণ মালিকানা থাকলেই অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের এ ভিসায় আবেদন করা যাচ্ছে। এ ভিসায় যোগ্য হতে হলে বয়স, অভিজ্ঞতা, ইংরেজি জানার দক্ষতা ইত্যাদি মিলে কমপক্ষে ৬৫ পয়েন্ট থাকতে হয়। কিন্তু কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের এ মনোনীত ভিসায় মাত্র ৫০ পয়েন্ট হলেও আবেদন করা যাবে। কারণ, রাজ্য সরকার মনোনীত আবেদনকারীদের ১৫ পয়েন্ট দেবে। ফলে, পর্যায়ক্রমে এ ভিসা থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার ভিসায় আবেদন করা যাবে। অবশ্যই ইতিমধ্যে চালু রয়েছে, এমন ব্যবসা কিনতে হবে এবং আবেদন করার পূর্বে অন্তত ছয় মাস ব্যবসা করার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। প্রথমে ৫ বছরের জন্য অস্থায়ী সাবক্লাস ৪৯১ ভিসা, তার ৩ বছর পর নির্ধারিত শর্তপূরণ হলে মিলবে স্থায়ী ভিসা।

অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দার ভিসা পাওয়ার বেশ কিছু বিকল্প আছে। তবে যাঁদের মধ্যে উদ্যোক্তাসুলভ চেতনা আছে, তাঁদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ। ছোট ব্যবসার মালিক সাবক্লাস ৪৯১ ভিসাটি রাজ্য সরকার মনোনীত ভিসা। আর বিজনেস স্কিলড মাইগ্রেশন কুইন্সল্যান্ড (বিএসএমকিউ) হচ্ছে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের মনোনয়ন প্রদানের দপ্তর।

এই ভিসার সুবিধাগত অন্যতম দিক হলো, ৪৯১ ভিসায় কোনো পেশার সীমা নেই। অর্থাৎ, যেকোনো পেশার প্রবাসীরাই এ ভিসায় আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রকৌশলী চাইলে বেকারি ব্যবসা কিনতে পারবেন, আবার একজন ডাক্তার মোটর গ্যারেজ ব্যবসার মালিক হয়েও আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

ভিসাটির কিছু আবশ্যিক শর্ত হলো—
১.
সাবক্লাস ৪৯১ ভিসাটি পয়েন্টভিত্তিক স্কিলড ওয়ার্ক রিজিওনাল (প্রোভিশনাল) ভিসা।
২.
ভিসাটিতে শুধু তাঁরাই আবেদন করতে পারবেন, যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন।
৩.
ভিসাটিতে আবেদন করতে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) জমা দিতে হবে।
৪.
ভিসাটিতে আবেদন করতে ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূল্যের ব্যবসা কিনতে হবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই ক্রয়কৃত ব্যবসার শতভাগ মালিকানা আবেদনকারীর হতে হবে।
৫.
স্টার্টআপ ব্যবসা অর্থাৎ নতুন ব্যবসার মালিকানা গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্যই ইতিমধ্যে চালু রয়েছে, এমন ব্যবসা কিনতে হবে।
৬.
ক্রয়কৃত ব্যবসায় কমপক্ষে একজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক কর্মী থাকতে হবে, যে কিনা সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কর্মরত থাকবে। অস্ট্রেলিয়ান কর্মী আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য কিংবা ঠিকাদার হওয়া যাবে না।
৭.
আবেদনকারীকে ৫০ পয়েন্ট পেতে হবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই নিজের পেশার স্কিল অ্যাসেসমেন্ট থাকতে হবে।
৮.
আবেদন করার পূর্বে অন্তত ছয় মাস ব্যবসা করার প্রমাণপত্র দেখা হবে। তবে আবেদনকারীকে এই ছয় মাস কুইন্সল্যান্ড কিংবা যেকোনো রিজিওনাল এলাকায় বসবাস করলেই হবে। ব্যবসা যে এলাকায়, সেখানেই বসবাস করার কোনো বাধ্যকতা নেই।

সাবক্লাস ৪৯১ ভিসার বিস্তারিত জানা যাবে কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট বিএসএমকিউ থেকে

*লেখক: অভিবাসন আইনজীবী, অস্ট্রেলিয়া। [email protected]

পরামর্শ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন