অনুশীলন করো দ্রুত লেখার

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। আর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য চাই দ্রুত হাতের লেখা। দ্রুত হাতের লেখা এমনিতেই হয় না। এর জন্য চাই নিয়মিত অনুশীলন। হাতের লেখা দ্রুত করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।মো. হাফিজুর রহমানপরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করতে আগ্রহী প্রতিটি শিক্ষার্থী। এ অর্জনের জন্য দরকার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দক্ষতা। তার মধ্যে সুন্দর হাতের লেখা এবং দ্রুত হাতের লেখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থীর হাতের লেখা সুন্দর কিন্তু দ্রুত নয়। শুধু এ কারণে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার সময় সবগুলো প্রশ্নের উত্তর করতে পারে না। সময়ের অভাবে বাদ যায় দুই-একটি প্রশ্নের উত্তর। আর এতে করে কমে যায় নম্বর। এই নম্বর কমে যাওয়া প্রভাব ফেলে পুরো পরীক্ষায়। তাই হাতের লেখা সুন্দরের পাশাপাশি দ্রুতও করা দরকার। কিন্তু কীভাবে? হাতের লেখা দ্রুত করার কৌশল জেনে নিন। পড়া মনে থাকা: পরীক্ষায় হাতের লেখা দ্রুত করতে হলে প্রশ্নের উত্তর খুব ভালো মনে থাকতে হবে। অন্য কথায় বলা যায়, প্রশ্নের উত্তর ভালো করে মুখস্থ বা জানা থাকতে হবে। লিখতে গিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর ভুলে গেলে তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না। এজন্যই মনে রাখার ওপর দ্রুত লেখা অনেকাংশেই নির্ভর করে।লেখার সময় টেবিল পরিচ্ছন্ন রাখা: লেখার সময় পড়ার টেবিল অবশ্যই গোছানো থাকতে হবে। অগোছালো টেবিলে গুছিয়ে লেখা সম্ভব হয় না। তাই এদিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। পড়ার টেবিলের ওপর রাখা বই, খাতা, নোট, ফাইল, ব্যাগ, কলম প্রভৃতি গুছিয়ে রাখবে। অন্যদিকে পরীক্ষার হলে লেখার ডেস্কে জিনিসপত্র যথাসম্ভব গুছিয়ে রাখবে।বেশি বেশি লেখার অনুশীলন: হাতের লেখা দ্রুত করার এটি একটি অন্যতম উপায়—যে যত বেশি লিখবে, তার লেখা তত বেশি দ্রুত হবে। একবার লেখা ১০ বার শেখার সমান কাজ করে। তাছাড়া বেশি বেশি লিখলে বানান ও বাক্য নির্ভুল হবে। হাতের লেখাও পরিচ্ছন্ন হবে।পর্যাপ্ত আলো থাকা: লেখা চর্চার জন্য যতটুকু আলো দরকার ততটুকু আলো পড়ার টেবিলের ওপর থাকতে হবে। আলো অস্পষ্ট হলে লিখতে গিয়ে সমস্যা হয়। কম আলোতে লেখাপড়া করলে চোখেরও ক্ষতি হয়। লেখার সময় পরিমাণ মতো আলো থাকলে দ্রুত লেখা যায়।আরামদায়ক চেয়ার: বসার চেয়ারটি আরামদায়ক হতে হবে। চেয়ারের উচ্চতাও টেবিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, যেন লিখতে গিয়ে সমস্যা না হয়। চেয়ার যদি আরামদায়ক না হয়, তখন মাঝেমধ্যে ওঠা-বসার কাজটি করতে হয়। এতে লেখার একাগ্রতা বিনষ্ট হয়। পরীক্ষার হলে বেঞ্চে আরাম করে বসে লেখার চেষ্টা করবে।ওভার রাইটিং না করা: লেখার সময় ওভার রাইটিং যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেরই পরীক্ষায় ওভার রাইটিংয়ের অভ্যাস থাকার কারণে এবং কাটাছেড়া করে পুনরায় লেখার কারণে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। ফলে দ্রুত লিখেও পরীক্ষায় সব প্রশ্নোত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না।ভালো কলম ব্যবহার: পরীক্ষায় দ্রুত লেখার জন্য ভালো বলপেন ব্যবহার করবে। কালি অবশ্যই কালো বা নীল হবে। কখনো কখনো দেখা যায়, কলমে ঠিকমতো কালি আসে না, কাগজের এক পৃষ্ঠায় লিখলে অপর পৃষ্ঠায় দাগ পড়ে। তাই কলমের ব্যাপারে পরীক্ষার্থীকে খেয়াল রাখতে হবে।সময় মেপে লেখা: প্রশ্নোত্তর সময় ধরে লিখতে হবে। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নোত্তর সময় ধরে লেখার অনুশীলন করতে হবে। একটি উত্তরের জন্য যতটুকু সময় নির্ধারিত আছে, ততটুকু সময়ের মধ্যে লিখতে হবে। এটা আগে থেকেই অভ্যাস করতে হবে। সময় ধরে লেখার অভ্যাস করলে দ্রুত লেখা সম্ভব হয়।প্রশ্ন নির্বাচন: পরীক্ষার সময় হাতে প্রশ্ন পেলেই খুব মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন পড়ে নেবে। তারপর ঠিক করে নেবে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর লিখবে। লেখার মাঝে হঠাত্ করে প্রশ্ন বদল করার চেষ্টা করবে না। অর্থাত্ প্রশ্ন হাতে পেলে বুঝে-শুনে প্রশ্ন নির্বাচন করে উত্তর লেখা শুরু করবে। এতে দ্রুত লেখার তাগিদ থাকবে। কোন প্রশ্নটা লিখবে, কোনটা লিখবে না সে জন্য সময় নষ্ট হবে না। লেখার মনোযোগ: লেখার সময় মনোযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো বিষয় গভীর মনোযোগ দিয়ে লিখলে লেখার গতি ভালো হয়। মনোযোগ আসার জন্য পরিবেশ নিরিবিলি হতে হবে। পরীক্ষার হলে অবশ্যই নীরবতা পালন করতে হবে। অনেকে গুনগুন করে পড়ে আর লেখে। এতে অন্যের মনোযোগ নষ্ট হয়। সে জন্য লেখার সময় কোনো ধরনের শব্দ না করাই ভালো। দ্রুত হাতের লেখা ভালো রেজাল্ট করার অন্যতম শর্ত। দ্রুত লিখতে পারা শিক্ষার্থীর অন্যতম গুণ। দ্রুত লিখতে পারলে একজন শিক্ষার্থী সহজেই পুরো নম্বরের উত্তর করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী দ্রুত লেখার কারণে পরীক্ষায় সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আর সে কারণেই পেতে পারে ভালো নম্বর।বানান শুদ্ধ হওয়া: পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি পরীক্ষার যেসব বিষয়ে রচনামূলক অংশ রয়েছে, সে বিষয়ে বরাদ্দ সময় খুব কম। তাই উত্তরে বানান ভুল হলে লেখার গতি কমে যাবে। সে জন্য বানান সঠিক হলে দ্রুত লেখা শেষ করতে পারবে। ভালো কাগজের ব্যবহার: হাতের লেখা দ্রুত করার সময় অবশ্যই ভালো কাগজ ব্যবহার করতে হবে। নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করলে হাতের লেখা দ্রুত হবে না। তাই অনুশীলনের সময় অবশ্যই ভালো কাগজ ব্যবহার করবে।নম্বর বণ্টন করা: পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ে নম্বর সঠিকভাবে বণ্টন করাও কিন্তু দ্রুত হাতের লেখার শর্ত। আগেই প্রতিটি বিষয়ের নম্বর অনুসারে সময় ভাগ করে নেবে। সময় ভাগ করা থাকলে কোনো প্রশ্নের উত্তরে অযথা বেশি লেখার ব্যাপারটি এড়াতে পারবে। এতে করে লেখা দ্রুত শেষ করা যাবে।পরীক্ষার হলের টেবিলে: পরীক্ষার হলেই সাধারণত দ্রুত হাতের লেখার প্রয়োজন পড়ে। তাই পরীক্ষার হলের টেবিলে বা বেঞ্চের মধ্যে বসে লেখার সময় দরকারি কাগজ গুছিয়ে একপাশে রেখে নেবে। তারপর মনোযোগ দিয়ে লেখা শুরু করবে।