বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন

ক. অর্থনীতির জনক কে?

খ. অভাব নির্বাচন বলতে কী বোঝো?

গ. মিজান যেভাবে অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ লিখেছে, সেটি অশুদ্ধ হলে শুদ্ধভাবে উপস্থাপন করো।

ঘ. মিজান অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছে, সেগুলো ছাড়া আর কী কী থাকতে পারে, তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. অর্থনীতির জনক হলেন অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ।

খ. সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাবের মধ্যে কোন গুরুত্বপূর্ণ অভাব প্রথমে পূরণ করা হবে, তা নির্ধারণ করাই হলো অভাব নির্বাচন।

একই সময়ে মানুষ অসংখ্য অভাবের সম্মুখীন হয়। সীমিত সম্পদের সাহায্যে এ অসীম অভাব পূরণ করতে হলে অভাবগুলোকে গুরুত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হয়। সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতার কারণে ‘নির্বাচন’ করা হলে এর মাধ্যমে উপযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।

গ. মিজান অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে যে ধারাবাহিকতা লিখেছে, তা সঠিক নয়। মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যাবলি এবং সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের সমন্বয় সাধন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকেই অর্থনীতি বলে। অর্থনীতির ইংরেজি শব্দ Economics গ্রিক শব্দ Oikonomia থেকে এসেছে। Oikonomia অর্থ গৃহস্থালির ব্যবস্থাপনা।

উদ্দীপকে মিজান যেভাবে অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ লিখেছে, সেটি ঠিক নয়। কারণ, তার লেখায় ধারাবাহিকতা ছিল না। বিষয়গুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।

অর্থনৈতিক ধারণার সূত্রপাত ঘটে খ্রিষ্টের জন্মের ২৫০০ বছর আগে। প্রাচীনকালে অর্থনীতি বিষয়ের আলাদা কোনো অস্তিত্ব ছিল না। গ্রিক সভ্যতার ইতিহাসে অ্যারিস্টটলকে প্রথম অর্থনীতিবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রোমান সমাজে কৃষিকে সৎ এবং সম্মানজনক পেশা হিসেবে মনে করা হতো। ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির একটি ভিত্তি তৈরি করেন। তাই বলা যায় যে মিজান যেভাবে অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ লিখেছে, সেটি ঠিক নয়।

ঘ. উদ্দীপকে মিজান অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে এলোমেলো ধারণা দিয়েছে।

আজকের যে অর্থনীতি আমরা পড়ি, তা আগে এতটা গোছালো ছিল না। আদিম সমাজে মানুষের জীবনযাপন ছিল সহজ সরল। খাবারদাবার, কাপড়চোপড় এবং বাড়িঘর—এ সবই ছিল মানুষের মৌলিক চাহিদা। দ্রব্যসামগ্রী বিনিময়ের রীতি ছিল খুবই সীমিত।

প্রাচীনকালে অর্থনীতি বিষয়ের আলাদা কোনো অস্তিত্ব ছিল না, যা ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির একটি ভিত্তি তৈরি করেন। এভাবে মিজান অর্থনীতির একটি এলোমেলো ধারণা দেয়।

প্রথমত, ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্ব হিব্রু সত্যতার যুগে ধর্মগ্রন্থে অর্থনীতি বিষয়ে অগোছালোভাবে কিছু আলোচনা হয়। দ্বিতীয়ত, প্রাচীন গ্রিস হলো এমন একটি দেশ, যেখানে অর্থনৈতিক–বিষয়ক বিভিন্ন ধারণার উৎপত্তি ঘটে। অ্যারিস্টটলের সময়ই গ্রিসের শ্রমিকদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে শ্রম বিভাগ বলে পরিচিতি লাভ করে। তৃতীয়ত, প্রাচীন ভারতে চতুর্থ খ্রিষ্টপূর্ব কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি ও সামরিক বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়। চতুর্থত, পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যবাদেরও আংশিক বিকাশ ঘটে। পঞ্চমত, অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায় যখন ইংরেজ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তার বিখ্যাত বই ‘An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ রচনা করেন, যা আধুনিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি।


মুহাম্মদ শামীম, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন