মতামত

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি

আগের বছরগুলোর মতো করে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই, এ বছর ভাবতে হবে নতুন করে
আগের বছরগুলোর মতো করে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই, এ বছর ভাবতে হবে নতুন করেফাইল ছবি
বিজ্ঞাপন

দেশের একটি জনগোষ্ঠী যদি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। আর এই জনগোষ্ঠী যদি সংখ্যায় ও সম্ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে দ্রুতই তাদের পাশে দাঁড়ানো অপরিহার্য। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একটি বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তই হতে পারে সমাধানের ভিত্তি। কোনো ধরনের অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে অহেতুক সমস্যার উদ্ভব ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। যেমন তৈরি পোশাক খাতে শিল্পকারখানা চালু করাও সাহসী সিদ্ধান্তের বড় উদাহরণ বলে আমি মনে করি। এ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে দেশ যে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারখানাগুলো যতটা সম্ভব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথা রেখে উৎপাদন শুরু না করলে শুধু বাণিজ্যই যে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তা নয়, বেকার হতো বহু শ্রমিক-কর্মী, সর্বস্বান্ত হতো অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষাক্ষেত্রেও সরকার বেশ কিছু ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরিহার্য নয়, এমন কিছু পরীক্ষা যেমন পিএসসি, জেএসসি বাদ দিয়ে শিক্ষাজীবন সচল রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবু দুর্ভাগ্য যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের। দৃঢ় প্রত্যয়, প্রতিজ্ঞা ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও লাখো পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এক রকম থমকে আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অস্বীকার করার উপায় নেই যে এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এর সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ছাড়াও তাদের পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। অনেক পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বহু পরিবার আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত। ব্যাপারটি রাষ্ট্রকে দ্রুত অনুধাবন করতে হবে। সমস্যার গভীরতা ও দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা খুব জরুরি। থাইল্যান্ড এরই মধ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশব্যাপী পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। করোনা দেশটির কর্তৃপক্ষকে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে নড়াতে পারেনি বা এতে স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও শোনা যায়নি।

শুধু আমলানির্ভর না হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বাস্তবতাসম্পন্ন, সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে, পরীক্ষার পরিধি (বিষয় সংখ্যা) কমিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সদিচ্ছা ও সঠিক নিয়মকানুন।

আবদুল আউয়াল খান

উপাচার্য, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন